kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

মানুষের ভার বইতে পারছে না সেতুটি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষের ভার বইতে পারছে না সেতুটি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া-আউরা খালের ওপর থাকা সেতুটি মারাত্মক ঝুঁর্কিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। লোহার তৈরি পিলারগুলো বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। এক সঙ্গে বেশি লোক চলাচল করলে সেতুটি কাঁপতে থাকে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে দুই পারের হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চলাচল করলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। যেকোনো মূহুর্তে সেতু ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, কাঁঠালিয়া-আউরা কৈখালী-ভান্ডারিয়া ভারানী খালের ওপর ১৯৬৬ সালে পাকিস্থান আমলে লোহার পিলারের ওপর কাঠের ছাউনির সেতুটি নির্মিত হয়। স্বাধীনতার পর এ সেতুটি রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্ব পান জেলা পরিষদ। স্বাধীনতার ৪৪ বছরের মধ্যে ৩-৪ বার সামান্য মেরামত করা হলেও তা কাজে আসেনি। সেতুর পূর্ব পাড় উপজেলা পরিষদ, উপজেলার প্রধান শহর, কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ থানা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, টিঅ্যান্ডটি, কাঁঠালিয়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মডেল গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পশ্চিম পারে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অফিসসহ বটতলা বাজার ও আমুয়া বন্দর।

জনগুরুত্বপুর্ণ সেতুটি দিয়ে শিক্ষার্থী কর্মজীবী অফিসগামী হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নড়বড়ে ওই সেতু দিয়ে যাওয়া আসা করে থাকে। তা ছাড়া সেতুর নিচ দিয়ে বার্জ কার্গো জাহাজ ফিশিং ট্রলারসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে।

বন্দরের ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল কবির পারভেজ বলেন, সেতুটি লোহার পিলারের ওপর কাঠের ছাউনি ছিল। কাঠ নষ্ট হয়ে গেলে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সিমেন্টের ম্লাব বসানো হয়। ২০১৬ সনে জেলা পরিষদের এক লক্ষ টাকা দিয়ে এটি মেরামত করা হয়। ২০১৭ সনে একটি বালুবাহী কার্গোর ধাক্কায় সেতুর মাঝখানের পিলার বাকা হয়ে যায়। পরে বাঁশ দিয়ে কোনো রকম চলাচল করছে মানুষ।

পাইলট গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জলিলুর রহমান আকন জানান, সেতুটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে ছেলে-মেয়েরা পার হতে ভয় পায়। বেশি লোক উঠলেই সেতুটি দুলতে থাকে। তাই গুরুত্বপুর্ণ সেতুটি দ্রুত মেরামত বা নুতন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম কবির সিকদার বলেন, এক সময়ের খরস্রোতা এই আউরা খালের ওপর সেতুটি কাঁঠালিয়া-আমুয়া-পাটিখালঘাটা ও চেচরী রামপুর ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ ছিল। বর্তমানে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ ব্যাপারে বহুবার জেলা পরিষদকে অবহিত করা হলেও কোনো কাজ হয়নি।

এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী বিপুল কুমার অধিকারী বলেন, দুই পাড়ে আমাদের রাস্তা। সেতুটি জেলা পরিষদের হওয়ায় এখানে কোনো বরাদ্ধ দেওয়া যাচ্ছে না। এডিবি প্রকল্প ছাড়া এটি মেরামতের কোনো সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দীন বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সেতু মেরামতের জন্য জেলা পরিষদকে চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো উত্তর না দেওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। এবং তারাও কাজটি করছে না।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির বলেন, সেতুর বর্তমানে যে অবস্থা তাতে নুতন করে আরসিসি পিলার দিয়ে মেরামত না করলে কোনো লাভ হবে না। তাই চেষ্টা করছি বড় কোনো বরাদ্দ আনা যায় কিনা। সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা