kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর দাফন সম্পন্ন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৪৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর দাফন সম্পন্ন

ফাইল ফটো

ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় কুলাউড়ায় রওশন আরা বাচ্চুর তৃতীয় জানাজা শুরু হয়। এরপর ১১:২০ মিনিটে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় বলে তাঁর পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে রাতেই তাঁর মরদেহ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়ি রওনা হয় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার উছলাপাড়া গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ আরো অনেকে। এ ছাড়া তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ২১ ফেব্রুয়ারি যেসব ছাত্রনেতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন রওশন আরা বাচ্চু।

গতকাল বিকেলে ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে তাঁর শ্রদ্ধানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রওশন আরা বাচ্চুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, জাতীয় অধ্যাপক ভাষাসংগ্রামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, লোকগবেষক শামসুজ্জামান খান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, প্রাবন্ধিক মোনায়েম সরকার প্রমুখ। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলা একাডেমি ও লেখিকা সংঘ।

রওশন আরা বাচ্চু ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর সিলেটের কুলাউড়া থানার উছলাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম এ এম আরেফ আলী ও মায়ের নাম মনিরুন্নেসা খাতুন।

১৯৪৭ সালে পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৪৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন রওশন আরা। এরপর ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স করে ১৯৬৫ সালে বিএড পাস করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি দুবার মাস্টার্স পাস করেন, যার একটি দর্শনে ও অপরটি মনোবিজ্ঞানে।

পেশাগত জীবনে তিনি শিক্ষকতা করতেন। যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে; যার মধ্যে রয়েছে ঢাকার আনন্দময়ী স্কুল, লিটন অ্যাঞ্জেলস, আজিমপুর গার্লস স্কুল, নজরুল একাডেমি, কাকলী হাই স্কুল এবং আলেমা একাডেমি। ২০০০ সালে তিনি বিএড কলেজের অধ্যাপক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা