kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভৈরবে একই স্থানে তিনবার ট্রেন লাইনচ্যুতির তদন্ত রিপোর্ট জমা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৮:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভৈরবে একই স্থানে তিনবার ট্রেন লাইনচ্যুতির তদন্ত রিপোর্ট জমা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেল পথের আউটার সিগন্যাল এলাকায় একই স্থানে বিগত ৫১ দিনে তিনবার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উদ্ধার কাজ শেষ হতে প্রতিবারই সময় লেগেছে কমপক্ষে ৫/৬ ঘন্টা। ফলে ওই সময় এ রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে করে এ রুটে ট্রেনে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

ট্রেন লাইনচ্যুতির এসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। প্রসঙ্গত বার বার একই স্থানে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় ভৈরব বাজার জংশনের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিগন্যাল) মো. সোলায়মান হোসেনকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ভৈরব-নরসিংদী সেকশনের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সাইফুল ইসলাম, ভৈরব-আখাউড়া সেকশনের লোক ইন্সপেক্টর উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিমল কান্তি বিশ্বাস ও ভৈরব বাজার জংশনের স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান। তদন্ত কমিটি গঠনের পর সাত কার্য দিবসের মধ্যে মঙ্গলবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশনা ছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত পহেলা অক্টোবরে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ২৪২ডাউন লোকাল ট্রেনটি ভৈরব রেলস্টেশনের আউটারে পৌছানো মাত্র ট্রেনটির একটি বগির তিনটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে ভৈরব-ময়মনসিংহ পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এ ঘটনার কারণ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরাজীর্ণ রেললাইন ও অতিরিক্ত গতির কারণেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত গতির কারণে লাইনের কার্বের সুপার এলিভেশন ঠিক না থাকার কারণে গত ১২অক্টোবর শনিবার রাত আটটার দিকে একই ট্রেনটি একই স্থানে আবারো লাইনচ্যুতি হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। সবশেষ গত ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্রগ্রামগামী নাসিরাবাদ মেইল ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঢোকার সময় আউটার সিগন্যালের কাছে বিকট শব্দে দুপুর সারে ১২টার দিকে ট্রেনের ইঞ্জিনের পিছনের ১টি বগির ৪টি চাকা লাইনচ্যুত হয়। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাড়ির ইঞ্জিন থেকে ৪র্থ নং কোচের আন্ডার গিয়ার পার্টস এর সাথে লাইনের ধাক্কা লাগার ফলেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

এদিকে যাত্রীরা বলছেন, এ রুটে মান্ধাতার আমলের রেল লাইনগুলো অকেজো হয়ে ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া রেললাইনের ওপর প্রয়োজনীয় পাথর নেই। অনেক জায়গায় স্লিপার, নাট, বল্টু ও লোহাগুলো জরাজীর্ণ হওয়ার কারনে হয়তো একাধিকবার এ দুর্ঘটনা ঘটছে ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা