kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

নোবিপ্রবির নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক আহত

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নোবিপ্রবির নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক আহত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নির্মাণাধীন মেডিক্যাল সেন্টার থেকে পড়ে দুই নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, মো. সানাউল্লাহ (৩০) এবং মো. রিয়াজ (২৮)। আহতদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায়।

নির্মাণ শ্রমিক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্মাণাধীন মেডিক্যাল সেন্টারের দোতলায় মাচায় দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন ওই দুই শ্রমিক। এ সময় হঠাৎ মাচা ভেঙে দুজন একই তলার নিচে পড়ে গিয়ে হাত, পা এবং বুকে মারাত্মকভাবে জখম হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনার পর সরেজমিনে নির্মাণাধীন ওই মেডিক্যাল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ভবনে কোনো সিকিউরিটি ক্যানোপি নেই। কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা বেল্ট ও মাথায় হেলমেট নেই। কোনো প্রকার নিরাপত্তা ছাড়াই শ্রমিকরা কাজ করছে।

নির্মাণাধীন মেডিক্যাল সেন্টারে কর্মরত কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক কালের কণ্ঠকে বলেন, নিরাপত্তার জন্য এখানে প্রতিরক্ষা জাল এখানে নেই। আমাদের গায়ে নিরাপত্তা বেল্ট, হেলমেট নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে এরকম দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পাব।

শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই বিল্ডিংয়ের ঠিকাদার মাহমুদ হাসান শিবলু কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তর থেকে আমাদের সেফটি ক্যানোপি সিডিউল ধরে দিলে আমরা কালই সেফটি ক্যানোপির ব্যবস্থা করব। আমাদের কিছু করার নেই একথা বলে তিনি এই প্রতিবেদককে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে গিয়ে কথা বলতে বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে গিয়ে জানা যায়, জরুরিভাবে ক্যানোপি ব্যবহার করে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান করা প্রসঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম জিয়াউদ্দিন  স্বাক্ষরিত এক চিঠি নির্মাণাকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট পাঠানো হয়। কিন্তু, তারা এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দীর্ঘদিন পর গত ২৮ অক্টোবর ঠিকাদার মাহমুদ হাসান শিবলু ওই চিঠিতেই সেফটি ক্যানোপি সিডিউল ধরা নেই লিখে স্বাক্ষর দিয়ে আবার পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে প্রেরণ করেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম জিয়াউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান প্রসঙ্গে তাদের চিঠি দিয়েছি। এখন তারা যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। সেফটি ক্যানোপি সিডিউল ধরা তো আমাদের কাজ না। এটি তাদের কাজ। কোনো শ্রমিক আহত হলে তার দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা