kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

জীবনজয়ী এক প্রতিবন্ধীর গল্প

মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ (সিলেট)   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবনজয়ী এক প্রতিবন্ধীর গল্প

আজম আলী। বয়স ২৮ বছর। বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামে। তাঁর পিতা মৃত আলতাব আলী। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও পেটের দায়ে গ্রিলের ওয়ার্কশপ এ কাজ করে সংসার চালান এই অদম্য যুবক। বিগত ৪ বছর ধরে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আজম আলীর উপার্জনেই চলছে তার পরিবার। তাঁর নিজের বউ-বাচ্চা না থাকলেও মা-তিন ভাই, দুই বোন রয়েছে। বেতনে চাকরি করে যে আয় করেন তা দিয়েই কোনোমতে তাদের পরিবার চলে। প্রায় ৫ বছর আগে তাঁর পিতা মারা যান। এরপর থেকে আজম আলী সংসারের হাল ধরেন। তাঁর নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নকিখালি বাজার। এ বাজারের ইউসুফ আলীর ওয়ার্কশপ এ কাজ করেন তিনি। মাসে বেতন পান তিন হাজার টাকা। অভাব-অনটনের সংসারে মা-ভাই-বোনদের তাঁর পরিশ্রমের রোজগারে টাকায় সামান্য খেয়ে পরে জীবন কাটছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও বাধা হতে পারেনি তাঁর কর্মজীবন। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে বেড়ে ওঠা আজম দরিদ্র পরিবারের বড় সন্তান। প্রতিবন্ধী আজম আলী নিজ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানোর শক্তি ও সামর্থ্য নেই। তবুও সে থেমে নেই। জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে সকল বাধা-বিপত্তিকে পেছনে ফেলে বেছে নিয়েছে কর্মজীবন। 

আজম আলী জানান, জন্মের পর থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাঁর দুটি পা অচল। তাঁর পিতা মারা যাওয়ার পর থেকেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। তাই বাধ্য হয়ে গ্রিলের ওয়ার্কশপ এ কাজ বেছে নিই। প্রতিদিন সকালে কাজে যাই, আর বিকেলে বাড়ি আসি। প্রতিবন্ধী ভাতা ও কাজের মাসের বেতনের টাকায় খুবই কষ্টে চলে আমাদের সংসার। আমার এ কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। মাঝে মাঝে শরীর খারাপ থাকলে কাজ করতে পারি না। আর আমি কাজ না করলে সংসার চলবে না। নিজের একটা দোকান থাকলে কাজের নিরাপত্তা পেতাম। কিন্তু সাধ্য থাকলেও সামর্থ্য নেই বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন পরিশ্রমী এই মানুষটি। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা তাকে জীবনের কাছে হার মানাতে পারেনি। নিজের সদিচ্ছা থাকলে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে তার দৃষ্টান্ত দুটি পা অচল প্রতিবন্ধী আজম আলী। 

তিনি আরো জানান, আমার মতো প্রতিবন্ধীরা সমাজের চোখে অবহেলিত হিসেবে বিবেচিত। আমি সমাজের চোখে বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না, নিজের কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই এই সোনার বাংলাদেশে। তবে এলাকার বিত্তবান কিংবা সরকারি কোনো সহায়তা পেলে তিনি নিজে ব্যবসা করার ইচ্ছা রযেছে বলে জানান।

স্থানীয় নকিখালি বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কাওছার খান বলেন, আজম আলী প্রতিবন্ধী হলেও সে সমাজের বোঝা নয়। সে নিজে কর্ম করে সংসার চালায়। প্রতিদিন তাঁর কর্মস্থলে যথাসময়ে আসতে দেখা যায়। এ কর্ম মাধ্যমে তাদের পরিবার চলে। সে একজন ভালো ছেলে।

উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের বলেন, তিনি (আজম আলী) চাইলে তাকে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা