kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

একদিকে ইউএনও'র নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে খনন

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একদিকে ইউএনও'র নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে খনন

রাজশাহীর বাঘায় একদিকে পুকুর খনন বন্ধ করে দেন ইউএনও, অন্যদিকে চলে খনন কাজ। ফলে এলাকার আবাদি জমির পরিমাণ যায় কমে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে এলাকা জলবন্ধতা সৃষ্টি হয়।  

জানা যায়, উপজেলার ফতেপুর গ্রামে সমতল জমিতে পুকুর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছিল উত্তর ফতেপুর বাউসা গ্রামের আব্দুল মালেক ও টেনু প্রামানিক। ব্যক্তিস্বার্থে এ গ্রামের মাঠে পুকুর খনন করা হলে কয়েকটি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ আশঙ্কায় পুকুর খননের বিষয়ে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। বিষয়টি জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই পুকুর খনন বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে কাউকে তোয়াক্কা না করে উপজেলার মনিগ্রাম মাদরাসার পেছনে সামসুল হকের ছেলে আলাউদ্দিনের আবাদি জমিতে পুকুর খননের কাজ চলছে। এ পুকুর খননের কাজ করছে আমিরুল ইসলামের ছেলে ইকবাল হোসেন। তিনি স্থানীয় ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ পুকুর খনন করছেন বলে এলাকায় প্রচার করছেন। অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সোমবার বাউসা ফতেপুর গ্রামে আবাদি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করে দিলেও মনিগ্রাম এলাকায় পুকুর খননের কাজ মঙ্গলবার  চলছে।

ফতেপুর গ্রামের মফিজুল ইসলাম জানান, ফতেপুর গ্রামের মাঠে ৩-৪ একর জমিতে পুকুর খনন করা হলে ফতেপুর বাউসা, মাঝপাড়া বাউসা, পীরগাছা গ্রামসহ পাশের গ্রামের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামের অনেক বাড়ি পানিতে ডুবে যাবে। এতে গ্রামবাসীর বসবাসসহ চলাচল কষ্ট কর হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপশি মাঠের আবাদি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে। কিন্ত কিছু লোক ব্যক্তিস্বার্থে পুকুর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর বন্ধ করে দেন।

অপরদিকে মনিগ্রামের মোহাম্মদ দোয়েল বলেন, একদিকে প্রশাসন পুকুর খনন বন্ধ করলেও অন্যদিকে খনন কাজ চলছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

বাউসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান জানান, ফতেপুর গ্রামে পুকুর খননের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফতেপুর গ্রামের পুকুর খননকারী আব্দুল মালেক জানান, নিজের জমিতে পুকুর খনন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর তা বন্ধ রেখেছি। এদিকে মনিগ্রামে পুকুর খননকারী ইকবাল হোসেন বলেন, প্রশাসনকে জানিয়ে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তবে কোনো অনুমতি আছে কি-না জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেনি। তিনি বারবার বলছেন প্রশানকে জানিয়ে পুকুর খনন করছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে ফতেপুরে পুকুর খননকারীদের ডেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মনিগ্রামে পুকুর খননের বিষয়ে জানা নেই। যদি কোনো অনুমতি না নিয়ে পুকুর খনন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা