kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

২০০৮-এ আড়াই হাজার টাকার চাকরি, আজ শত কোটির মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০০৮-এ আড়াই হাজার টাকার চাকরি, আজ শত কোটির মালিক

কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। এলাকায় মাদক কারবার, দখলবাজি, শত শত একর পাহাড় কেটে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি, কবরস্থান দখল করে জায়গা বিক্রি, অটোরিকশা ও বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আছে জসিমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, কাউন্সিলরের পদে থেকে দখলবাজি, পাহাড় কাটা, জমি দখলসহ নানা অপরাধ করছেন জসিম। এর মাধ্যমে গত চার বছরে অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালের আগে ইস্পাহানি মিলস লিমিটেডে সুপারভাইজার পদে আড়াই হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন জহুরুল আলম জসিম। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চসিক নির্বাচনের পর প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি এলাকায় মাদক কারবার, দখলবাজি, শত শত একর পাহাড় কেটে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে বিক্রয়, বিশ্বব্যাংক হাউজিং এস্টেটের কবরস্থান দখল করে জায়গা বিক্রয়, অটোরিকশা-বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায়, কৈবল্যধাম হাউজিং এস্টেটের ১৬০টি দোকানঘর দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

ছাত্রজীবনে পাহাড়তলী ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে সন্দ্বীপের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছাত্রদলের ক্যাডার বেলাল উদ্দিন জুয়েলকে আকবর শাহ থানা এলাকার যুবলীগের নেতা বানানোর অভিযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করানো হয় এবং তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এলাকায় নানা অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত। গত ৩০ জুন নগরের পাহাড়তলী এলাকায় যুবলীগের প্রতিপক্ষের কর্মী মহসিনকে বেধড়ক পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার মূল নায়ক বেলাল উদ্দিন জুয়েল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিমের অনুসারী।

এলাকাবাসী জানায়, গত সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর গাঢাকা দেন কাউন্সিলর জসিম। ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। সম্প্রতি অভিযান বন্ধ থাকায় আবারও এলাকায় ফিরেছেন তিনি।

এলাকাবাসী বলছে, জসিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও ২০১৫ সালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেছেন তিনি। আগে যাঁরা কাউন্সিলর ছিলেন তাঁরা এলাকার উন্নয়নে তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারেননি। 

বর্তমানে নামে-বেনামে তাঁর ৩০০-৪০০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক কলোনিতে ১৭টি প্লট, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা; ফিরোজ শাহ কলোনিতে ছয়টি প্লট ও দুটি ছয়তলা বাড়ি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা; গিরিধারা হাউজিংয়ে সাত কাঠা সমমানের চারটি প্লট, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা; জয়ন্তিকা আবাসিকে ১৩টি প্লট, যার বাজারমূল্য আট থেকে ১০ কোটি টাকা; লেকসিটি হাউজিংয়ে ছয়টি প্লট, যার বাজারমূল্য আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা; লেকসিটি হাউজিংয়ের পাশে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বিভিন্ন দাগে মোট ২০ কানি (৪০০ গণ্ডা) জায়গা দখল, যার বাজারমূল্য ৮০-৯০ কোটি টাকা; হারবাতলী শাপলা আবাসিক এলাকায় অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি দৃশ্যমান।

এ ছাড়া সেভেন মার্কেট বাজার, যা কৈবল্যধাম হাউজিং এস্টেটের মালিকানাধীন, সেখানে ১৬০টি দোকান কাউন্সিলর জসিমের দখলে রয়েছে। প্রতিটি দোকানের দখল এককালীন এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি ৬০ লাখ টাকায় হস্তান্তর করেছেন। এসব দোকানের প্রতিটি থেকে প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে আদায় হয়। অর্থাৎ মাসে আট থেকে ৯ লাখ টাকা আদায় হয়। সেভেন মার্কেট অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা চাঁদা তোলেন জসিম। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ টাকা। জসিম তাঁর কিশোর গ্যাং দিয়ে এলাকায় দখলবাজি, প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা