kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

দাফনের পর 'মর্যাদা' পেলেন মুক্তিযোদ্ধা

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দাফনের পর 'মর্যাদা' পেলেন মুক্তিযোদ্ধা

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে নরসিংদীর মনোহরদী থানা পুলিশের 'অবহেলায়' রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হয়েছে আবুল হাসেম (৭৫) নামে এক মুক্তিযোদ্ধার। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হলে অবশেষে কবরের সামনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় দুজন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও পশ্চিম চরমান্দালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম (৭৫)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রবিবার বিকেল চারটায় তিনি নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা প্রশাসন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে বিষয়টি অবগত করেন। রাষ্ট্রীয় সন্মান প্রদানসহ তাঁর জানাজা নামাজের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার সকাল ১১টায় জানাজা নামাজের আয়োজন করা হলে সেখানে উপস্থিত হন সহযোদ্ধা ও স্বজনরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে দুইজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় নিয়ম অনুসারে জাতীয় পতাকা দিয়ে মরহুমের লাশ ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের টিম উপস্থিত না হওয়ায় তাকে 'গার্ড অব অনার' দেয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় ক্ষুদ্ধ স্বজনরা দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।

প্রায় এক ঘন্টা পর এসআই মাসুদ রানার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হলে মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু এবং থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ টিম পৌছে মুক্তিযোদ্ধার কবরে। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এদিকে ঘটনার জন্য দায়ী করে থানার এসআই মাসুদ রানা এবং এএসআই বজলুর রহমানকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জাকির হাসান।

এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'নরসিংদী থেকে বিউগল সদস্য আসতে দেরি হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। যথাসময়ে থানা পুলিশ জানাজায় উপস্থিত হতে পারেনি। তবে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।'

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, ‘বিজয়ের মাসে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে না পারাটা খুবই দুঃখজনক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা