kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

মেয়ের আহাজারিতে শোকার্ত এলাকাবাসী

'আমার জন্য বাবা পাখিটা চলে গেলো, ও বাবা, ও পাখিরে...'

যশোর অফিস   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আমার জন্য বাবা পাখিটা চলে গেলো, ও বাবা, ও পাখিরে...'

যশোরে মেয়েকে উত্যক্ত ও ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করার প্রতিবাদ করায় আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামে এক ব্যাক্তি খুন হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যশোর উপশহরের ৬ নং সেক্টরের সারথী মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় হত্যাকারী হোসেন আলীকে পুলিশ আটক করেছে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক ও হত্যাকারী হোসেন যশোর উপশহর সারথী মিল এলাকার জাফর আলী বিশ্বাসের বাড়ির ভাড়াটিয়া। নিহত রাজ্জাক এলকায় প্রহরীর চাকরি করতেন। মৃতের পরিবার অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এলাকাবাসী জানায়, মেয়েটি খুবই ভালো। তবে হোসেনের চরিত্র ভালো না। তার একাধিক স্ত্রী আছে। সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতো। 

নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রজনী নামে যে মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা হয়েছিল, সেই মেয়েটির আহাজারিতে শোকার্ত এলাকার পরিবেশ। প্রতিবেশীরাও ভীড় করেছে বাড়িতে। মেয়েটি মৃত বাবার জন্য চিৎকার করে কাঁদছে আর বার বার বলছে, 'আমার জন্য আমার বাবা পাখিটা চলে গেলো। ও বাবা, ও পাখিরে...।'

নিহত রাজ্জাকের মেয়ে রজনি ক্রন্দনরত অবস্থায় জানান, 'হোসেন আমাকে তার কথা মতো চলতে বলে। তার কাছে নাকি আমার কি রেকর্ডিং রয়েছে। অথচ কিসের রেকর্ডিং তাও আমি জানি না। আমি একথা বাড়িতে বলে দেই। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়। আর আমার বাবা একথা হোসেনের কাছে জানতে গেলে আজ সকালে তর্ক-বিতর্ক হয়। এসময় হোসেন আমার বাবার বুকে জোরে লাথি মারে। আমার বাবা মারা যান। সে আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে।’ 

নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সামিউল ইসলাম রাজন বলেন, ‘আমরা একই বাড়ির ভাড়াটিয়া। ইজিবাইকচালক হোসেনের কাছে নাকি আমার বোনের ছবি ও ফোনালাপ রয়েছে। সে এগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে গত ১৫ দিন ধরে তার কথা মতো চলতে বলতো। আমার বোন একথা আমার বাবা-মাকে জানায়। এ নিয়ে আজ সকালে আমার বাবার সাথে হোসেনের তর্ক-বিতর্ক হয়। এসময় আমার বাবার বুকে হোসেন লাথি মারে। এতে আমার বাবা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। এসময় তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। তাকে দ্রুত হাসপাতলে নিয়ে গেলে হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের স্ত্রী সকিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ের মালয়েশিয়া প্রবাসী মুরাদ নামে এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে। জামাইয়ের বাড়ি খাজুরার তেজরোল গ্রামে। আর ১৮ দিন পরে জামাইয়ের বিদেশ থেকে আসার কথা। হোসেন আমার মেয়েকে বিরক্ত করতো। তার প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।’ 

এ ব্যাপারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিক বলেছেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। কি কারণে মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। 

এদিকে, পুলিশ নিহতের বাড়ি থেকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আবার হাসপাতালে পাঠায়। 

এ ব্যাপারে যশোর কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, স্থানীয়ভাবে তারা জানতে পেরেছেন অডিও রেকর্ড নিয়ে বিরোধের জের ধরে আজকে গোলযোগের এক পর্যায়ে হোসেনের লাথিতে রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা