kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মানিকগঞ্জের তেরশ্রী গণহত্যা

জমিদার সিদ্ধেশ্বর, অধ্যক্ষ আতিয়ারসহ ৪৩ জনকে হত্যা করা হয় আজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:০৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জমিদার সিদ্ধেশ্বর, অধ্যক্ষ আতিয়ারসহ ৪৩ জনকে হত্যা করা হয় আজ

আজ ২২ নভেম্বর মানিকগঞ্জের তেরশ্রী গণহত্যা দিবস। রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের এই দিনে মানিকগঞ্জের ঘিওরের তেরশ্রী গ্রামের ৪৩ জন নিরীহ বাসিন্দাকে হত্যা করেছিল। দিনটি স্মরণে তেরশ্রী শহীদ স্মরণ কমিটি নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালে এদিন বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সেনা তেরশ্রী গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভোর রাতে প্রায় ৩’শ পাকহানাদার বাহিনীর সাথে এদেশীয় রাজাকার আলবদররা মিলে তেরশ্রী গ্রামসহ আশপাশের চারটি গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। প্রথমে তারা গান পাউডার দিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে মানুষজন ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেই তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। ভোর রাতে প্রায় ৩’শ পাকহানাদার বাহিনীর সাথে এদেশীয় রাজাকার আলবদররা মিলে তেরশ্রী গ্রামসহ আশপাশের চারটি গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

তেরশ্রী স্টেটের জমিদার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সিদ্ধেশ্বরী প্রসাদ রায় চৌধুরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গায়ের শালে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। গুলি করে হত্যা করা হয় তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়া রহমানকে। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর আশপাশের গ্রামের লোকজন এসে মৃত দেহগুলো নিয়ে স্থানীয় শ্মশানে ও কবরস্থানে মাটি চাপা দেয়।

সেদিন অনেক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। আহতদের অনেকেই এখনো জীবিত রয়েছেন।  ওই সময় তারা পুরো গ্রামের ঘর-বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। সেই ভয়াল দিনে বেঁচে যাওয়া অনেকেই এখন মানবেতর দিন যাপন করছেন। এছাড়া শহীদের মর্যাদা পাওয়ার দাবি রয়েছে পরিবারগুলোর।

শহীদদের স্মরণে তেরশ্রী গ্রামে নির্মিত হয় সরকারিভাবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। সেই স্তম্ভে ৩৬ জন শহীদের নাম লিপিবদ্ধ হলেও বাকীদের নাম অজানাই রয়ে গেছে।

স্বাধীনতার পর বহু বছর পার হলেও এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে জমিদার পরিবারের সদস্যদের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা