kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

দুই বছরেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই বছরেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামে খালের মধ্যে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দু’বছর পরও সংযোগ সড়কবিহীন রয়েছে। সেতুর দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে স্থানীয় বাসিন্দারা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি।

জানা যায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বেড়হাউলিয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়া আজিজুল হকের বাড়ির পাশে খালের মধ্যে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৭৮ টাকা ব্যয়ে পাবনার মেসার্স আখতারুল ইসলাম মধু নামে একজন ঠিকাদার সেতুটি নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর দুই পাশের অর্ধ কিলোমিটার করে সংযোগ সড়ক এখনো নির্মাণ করা হয়নি। এমনকি আজ পর্যন্ত ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ী সেতুর দুই পাশে ২০ ফুট করে মাটিও ভরাট করেননি। এতে গ্রীষ্ম-বর্ষা কোনো ঋতুতেই সেতুটি গ্রামবাসীর কাজে আসছে না।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পূর্ব পাশে ৫/৬ ফুট গভীর গর্তে পানি আর কচুরিপানায় ভরে আছে। আর পশ্চিম পাশে গর্তের গভীরতা কম থাকলেও পানি ও কাঁদায় চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে। মানুষ চলাচল করতে না পারায় পাশের বাসিন্দারা সেতুর উপর বাঁশের মাচাল তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামের চরপাড়া সড়ক থেকে ঈদগাঁ মাঠ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ না করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তাই এটি তাদের কোনো কাজে আসছে না।

সেতুর দুই পাড়ের বাসিন্দারা ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, এত টাকা খরচ করে নির্মিত সেতু তাদের কোনো কাজে আসছে না।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন জানান, সেতু নির্মাণের পর থেকেই সংযোগ সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি চলতি অর্থ বছরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উভয় পার্শ্বে সড়ক নির্মাণ হবে।

ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, সেতুটি নির্মাণের পরের বছর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি নগণ্য। এর ওপর যেটুকু মাটি কাটা হয়েছিল সেটুকু বন্যায় ধুয়ে গেছে। তবে এই অর্থবছরে উপজেলা প্রশাসন থেকে বড় ধরনের একটি বরাদ্দ দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা