kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া-ঢাকা মহাসড়ক

বিপজ্জনক বাঁকে মৃত্যুর ফাঁদ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:৩৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিপজ্জনক বাঁকে মৃত্যুর ফাঁদ

কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া চৌরাস্তার উত্তর পাশে ১০০ গজের মধ্যে ভয়ঙ্কর চারটি বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলো হলো- জালুর বাড়ির মোড়, ডাইলের বাড়ির পুকুরপাড় মোড়, বাঘের বাড়ির মোড় ও মৃদুর বাড়ির মোড়। বাঁকগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং বড় গাড়ির জন্য বিপজ্জনক। ফলে বাঁক ঘোরার সময় বা বিপরীত দিকের গাড়িকে সাইড দেওয়ার সময় গাড়ি উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম শঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জালুর বাড়ির মোড় ও ডাইলের বাড়ির পুকুর পাড়ের মোড়টি ৯০ ডিগ্রি। তাই মোড় ঘোরার সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা ক্ষেতে গিয়ে উল্টে পড়ে যায়। মোড়ে সাংকেতিক চিহ্ন থাকলেও সড়কের মাঝে উজ্জল রংয়ের কোনো বিভাজক চিহ্ন নেই। তাছাড়া সড়কের দুপাশে কলাগাছ ও জঙ্গল থাকায় অনেকটা ধারণার উপর ভিত্তি করে চালকের এ মোড়গুলো অতিক্রম করতে হয়।

এলাকাবাসী জানায়, এই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, টমটম, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া নেত্রকোনা জেলাসহ ময়মনসিংহের নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জের লোকজন প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ঢাকায় চলাচল করে। অথচ এই বিপজ্জনক বাঁকগুলো সোজা করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

আবদুল হান্নান বলেন, এ মোড়গুলোতে প্রতিদিনই কোনো না কোনো গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ছে। দুর্ঘটনায় পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর ও মসজিদের দেওয়াল ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া এসব দুর্ঘটনায় যাত্রীরাও গুরুতর আহত হচ্ছে।

অনন্যা পরিবহনের চালক আবদুর রশিদ বলেন, বাঁকগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মোড় ঘোরার সময় সামনে কিছুই দেখা যায় না। সামনে মোড়, গতিসীমা কমানো এ ধরনের সাইনবোর্ড থাকলে বা উজ্জল রং দিয়ে রাস্তার মাঝখানে চিহ্ন দেওয়া থাকলে অনেকটা ঝুঁকিমুক্তভাবে মোড় ঘোরা যায়। তিনি আরো জানান, রাস্তার দুপাশে জঙ্গল ও বিভিন্ন গাছপালায় মোড়গুলো ঢেকে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ আল নূর সালেহীন বলেন, সড়কটির সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন বাঁক সোজা করতে ৭৩০ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গত অক্টোবর মাসের ২৯ তারিখ জাতীয় অর্থনীতি পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা