kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

চান্দিনায় নসিমনচালক হত্যা

জুতা চিনিয়ে দিল খুনি

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জুতা চিনিয়ে দিল খুনি

কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাকির হোসেন (৪৮) নামে এক নসিমনচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতের অন্ধকারে কে বা কারা তাকে হত্যার পর শনিবার একটি ডোবার পাশে মরদেহ ফেলে যায়। শনিবার নিহতের মেয়ে নাঈমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। 

নিরীহ জাকির হোসেনকে কেন হত্যা করবে বা কারা হত্যা করতে পারে এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ হত্যকারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে চান্দিনা থানা পুলিশ। 

নসিমনচালক জাকির হত্যাকাণ্ডের কোনো সাক্ষী না থাকলেও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সাক্ষী হলো জুতা! ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থানে একপাটি রাবারের জুতা পাওয়ার পর ওই জুতাটি ঘিরে শুরু হয় পুলিশের তদন্ত। 

স্থানীয়দের তথ্যমতে বের হয়ে আসে ওই জুতার মালিক কে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই জুতার মালিক শ্রীমন্তপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে সিএনজিচালক ছানাউল্লাহ (২৬) কে আটক করে। ছানাউল্লাহর দেওয়া তথ্যমতে একই গ্রামের আব্দুল এরশাদ এর ছেলে আব্দুল মালেক (২৮) কে-ও আটক করার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলতে থাকে। 

তাদের দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, সম্প্রতি জাকির হোসেন এর সাথে সিএনজি কেনা-বেচা নিয়ে ছানাউল্লাহর কথাকাটাকাটি হয়। ওই কথাকাটাকাটির ক্ষোভ পুষে রাখে ছানাউল্লাহ। শুক্রবার রাত প্রায় ১টার সময় জমির আইল দিয়ে জাকির হোসেন বাড়ি ফেরার সময় মনের ক্ষোভ মিটাতে আক্রমণ করে ছানাউল্লাহ ও তার সহযোগী মালেক। তার মুখ চেপে ধরে কিল ঘুষির একপর্যায়ে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে জাকির হোসেন।

কিছুক্ষণ পর তারা বুঝতে পারে জাকির হোসেন মারা গেছেন। আর হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে মরদেহ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলার চেষ্টা করে তারা। মরদেহ ডোবার পাড়ে নিয়ে যেতেই দূর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির টর্চের আলো পড়ে তাদের ওপর। আর মুহূর্তের মধ্যে মরদেহ ফেলে পালিয়ে আসে হত্যাকারী মালেক ও ছানাউল্লাহ। এ সময় তারাহুড়া করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ার সময় পথিমধ্যে পড়ে থাকে ছানাউল্লাহর বাম পায়ের একটি জুতা।

এমন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কুমিল্লার ৭ নম্বর আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আব্দুল মালেক। তার একদিন পর বুধবার (২০ নভেম্বর) একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঘটনার মূলহোতা ছানাউল্লাহ। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা চান্দিনা থানার এসআই গিয়াস উদ্দিন জানান, হত্যাকারীদের তথ্যমতে তারা জাকির হোসেনকে মারধর করতেই আক্রমণ শুরু করে। কিন্তু তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে মৃত্যু ঘটে জাকির হোসেনের। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা