kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

রেললাইনের স্লিপার নষ্ট, খুলে গেছে স্ক্রু, নেই পাথর

উত্তরে বাড়ছে ট্রেন দুর্ঘটনার শঙ্কা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:২১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রেললাইনের স্লিপার নষ্ট, খুলে গেছে স্ক্রু, নেই পাথর

ফাইল ফটো

বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হয়েছে রেললাইনের স্লিপার, খুলে গেছে স্ক্রু, নেই পর্যাপ্ত পাথর। কুড়িগ্রাম-তিস্তা রেলপথে বড়পুলের পাড় নামক স্থানে দেবে গেছে সেতুর পিলার। মাটি সরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার রেলপথ। এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন। গেটম্যান ছাড়াই ট্রেন চলাচল করে নীলফামারীর চিলাহাটি রেললাইনে।

একই অবস্থা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধাসহ রংপুর অঞ্চলের অধিকাংশ রেলপথের। রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী রংপুর বিভাগের আট জেলায় রেলপথে মোট ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে ১৪৫টি। এ বছরই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ১০টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের কাউনিয়ায় ১২টি লেভেলক্রসিং যেন মরণ ফাঁদ। এই রেলওয়ে জংশনটির আওতায় ১২ লেভেলক্রসিংয়ে কোনো গেট নেই। সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দিয়ে দায় সারছে রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও এই কাউনিয়া জংশন হয়েই রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ রেলপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। প্রতিদিন কাউনিয়া রেল জংশন স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করে দুটি আন্ত নগর ট্রেনসহ ২৮টি ট্রেন। ওই ১২টি লেভেলক্রসিং সড়ক দিয়ে দিন-রাত যানবাহন ও মানুষ চলাচল করলেও রেল কর্তৃপক্ষের কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ জুন কুর্শা ইউনিয়নের শিবু কুঠির পাড় লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় একটি গরুবোঝাই নছিমন দুর্ঘটনার শিকার হলে চারজন লোক এবং সাতটি গরু প্রাণ হারায়। এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে বলভবিষু লেভেলক্রসিং পার হতে গিয়ে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারান। একই মাসে বালাপাড়া গেটে ট্রেন ও জিপের সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন।

কাউনিয়া রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদ বলেন, রেলগেট এবং গেটম্যান দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, কোনো কাজ হয়নি। এ ছাড়া স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট থাকলেও তা পূরণ হচ্ছে না। ফলে উন্মুক্ত লেভেলক্রসিংগুলোতে এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী গেট ও গেটম্যান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, সমস্যা সমাধানে খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা