kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

পণ্য পরিবহন ধর্মঘট

নেপথ্যে চট্টগ্রাম বন্দর অচলের টার্গেট!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেপথ্যে চট্টগ্রাম বন্দর অচলের টার্গেট!

দেশের বেশির ভাগ আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বন্দর থেকে বের হয়ে প্রতিদিন পণ্যবাহী হাজার হাজার যানবাহন নগরের নিমতলা বিশ্বরোডের মুখ হয়ে বন্দর সংযোগ সড়ক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। গতকাল বুধবার এই সড়কে যানবাহন আটকে দিয়ে ধর্মঘট সফল করার চেষ্টা করে পরিবহন শ্রমিকরা।

দুপুর সোয়া ২টায় নিমতলা মোড় থেকে বন্দর সংযোগ সড়ক দিয়ে আসার পথে দেখা গেল বড়পোল এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা আটকে তিন যাত্রীকে নামিয়ে দেন ৩০-৩৫ জন শ্রমিক। পণ্য পরিবহন ধর্মঘটে গণপরিবহন চলাচলে বাধা কেন জানতে চাইলে এ সময় নিজেকে রহমান পরিচয় দেওয়া এক যুবক বলেন, ‘এই রুট (চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ সড়ক) বন্ধ করে দিলে আমাদের দাবিগুলোর সমাধান হবে।’ 

কিভাবে—জানতে চাইলে আরেক শ্রমিক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী সব গাড়ি এই রুট দিয়ে যায়। তাই আমরা এখানে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে সব গাড়ির চালকরা আছেন।’

বড়পোলের পাশে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের তিন রাস্তার মোড়ে কয়েক শ লোক। এর মধ্যে বেশির ভাগের বয়স ২০-২৫। সেখানে ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে দেখা যায়, পণ্যবাহী গাড়ির পাশাপাশি নগরের গণপরিবহন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাড়ায় চলাচলরত গাড়ির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। মিঞা জাহান নামে এক যুবক বলেন, ‘আমি সিএনজি অটোরিকশাচালক। আমাকে বলেছে গাড়ির যে নতুন আইন হয়েছে তাতে অনেক সমস্যা হবে। তাই গাড়ি না চালিয়ে আমরাও এখানে এসেছি।’

পরে এক্সেস রোডের তিন রাস্তার মোড় ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেল, হেঁটে শত শত মানুষ বিভিন্ন দিকে যাচ্ছে। রিকশা ছাড়া কোনো যানবাহন চলতে না দেওয়ায় বন্দর সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে নিমতলা বিশ্বরোড থেকে কর্নেলহাট (ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের প্রবেশমুখ) পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে দেখা যায় কয়েক গজ পর পর ধর্মঘটকারীদের অবস্থান। এর মধ্যে কোনো পয়েন্টে ৩০-৪০ জন, আবার কোথাও কয়েক শ জনের জমায়েত। এভাবে অন্তত ২০-২৫টি পয়েন্টে চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ সড়কে (পিসি রোড) পিকেটিং করে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিলেও এসব পয়েন্টে একজন পুলিশকেও দেখা যায়নি। তবে সাগরিকা ও অলংকার মোড়ে পুলিশ বক্সের সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা গেছে। কিন্তু সড়কে দিনভর যানবাহন চলাচল বন্ধের কারণে যাত্রী ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়লেও পুলিশ সদস্যরা ছিলেন একেবারে নিষ্ক্রিয়।

বন্দর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধর্মঘটকারীদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করে তাঁরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ সড়কটি শুধু চট্টগ্রাম নগরের নয়, এই সড়ক বন্ধ হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কোনো গাড়ি দেশের কোথাও যেতে পারবে না। এতে সরকারের টনক নড়বে। দাবি না মানা পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে। আগামীকাল (আজ) থেকে ধর্মঘট আরো কঠিন হবে। প্রয়োজনে রিকশাও চলতে দেওয়া হবে না।

এই অবস্থায় নিমতলা মোড় থেকে কর্নেলহাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরিসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে টার্গেট করে বন্দর সংযোগ সড়ক অচল করে দিয়েছে শ্রমিকরা। এর মধ্যে বেশির ভাগই শ্রমিক নয়। একটি পক্ষ মনে করছে, বন্দর থেকে পণ্য বের না হলে এর প্রভাব সারা দেশে পড়বে। অতীতে দেখা গেছে, সরকারবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করার একটা পাঁয়তারা থাকত। কিন্তু কোনো সময় গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আন্দোলনে বন্দর সংযোগ সড়ককে এভাবে টার্গেট করা হয়নি। এবার কেন টার্গেট করা হলো তা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখা জরুরি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্দর সংযোগ রুট ছাড়া নগরের সব রুটে গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলেছে। কিন্তু বন্দর সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা সড়কটি অচল করে দিয়েছে। এতে বন্দর অচলের টার্গেট থাকতে পারে তাদের। তিনি দাবি করেন, তাদের কোনো সংগঠন এতে জড়িত নয়।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু বলেন, অনির্দিষ্টকালের পণ্য পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে একটি সংগঠন। কিন্তু গণপরিবহন ধর্মঘট না ডাকলেও তারা গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন কেন বন্ধ করে দিয়েছে। এর পেছনে বড় ধরনের একটা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা