kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

চট্টগ্রাম কাস্টমসে দুদকের অভিযান

চার ‘ফালতু’ ধরা দুজন সিঅ্যান্ডএফ সভাপতির কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৫৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চার ‘ফালতু’ ধরা দুজন সিঅ্যান্ডএফ সভাপতির কর্মী

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে গতকাল মঙ্গলবার আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬-এ অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে দুপুরে এই অভিযানকালে কাস্টম হাউসের ভেতরে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত একটি কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশকারী চার সিঅ্যান্ডএফ কর্মীকে বিল অব এন্ট্রির ডকুমেন্টসহ আটক করে দুদকের দলটি। তাঁদের দুজনই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এ কে এম আকতার হোসেনের প্রতিষ্ঠানের কর্মী। পরে তাঁদের জিম্মাদারের আওতায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ব্যক্তিরা প্রবেশ করে কাস্টমসের নিরাপত্তা ও কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দুদকের একাধিক অভিযানে তাঁদের ধরা হলেও কিছুদিন পর আবার ফিরে আসেন ফালতু নামে পরিচিত এই অবৈধ কর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযান পরিচালনাকারী চট্টগ্রাম দুদকের উপপরিচালক লুত্ফুল কবির চন্দকে বিকেল থেকে অসংখ্যবার ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে অভিযানের সময় উপস্থিত এক কাস্টমস কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আমদানি পণ্য খালাসের শুল্কায়ন কক্ষে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত।

লাইসেন্সধারী অনুমোদিত সিঅ্যান্ডএফ কর্মী ছাড়া অন্যদের এখানে প্রবেশ নিষেধ। দুদকের দল সেখান থেকে চারজনকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম আকতার হোসেনের প্রতিষ্ঠান সিলভার সিন্ডিকেটের কর্মী। বাকি দুজন আরেক প্রতিষ্ঠানের। খবর পেয়ে আকতার হোসেন ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাচ্চু এসে ওই চারজনকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান। 

জানতে চাইলে আকতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁদের ঠিক অবৈধ বলা যাবে না। তাঁরা সবাই অ্যাসোসিয়েশনের কর্মী। আমরা তাঁদের প্রবেশ পাস দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু কাস্টমসের কারণে বাস্তবায়ন হয়নি।’

একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই এই অবৈধ কর্মীদের কাস্টম হাউস থেকে সরানোর চেষ্টা করছি। তাঁদের আলাদাভাবে বসার জন্য একটি কক্ষ তৈরি করে অর্থও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতারাই সেই নিয়ম চালু করছেন না।’ 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, ‘একটি খবর পেয়ে দুদকের কর্মকর্তারা কাস্টমসে এসেছিলেন। তাঁরা সংশ্লিষ্টদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন। আমি দুর্নীতি নিয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। আগেও কাউকে ছাড় দিইনি, আগামী দিনেও নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা