kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

‘আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে’

ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উঠবে ফেব্রুয়ারিতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উঠবে ফেব্রুয়ারিতে!

পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে পারে ভারত সরকার। নিজেদের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসা এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ফলনে ক্ষতি হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ফলন আসার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি নভেম্বর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা ছিল। কিন্তু সেই ফলনে ক্ষতি হওয়ায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে যাচ্ছে দিল্লি। 

এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না এলেও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে এমন আভাস দিয়েছে। গতকাল দি ইকোনমিক টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এসংক্রান্ত প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এমন সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘আগামী তিন মাস পরের বাজার নিয়ে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত থেকে আমরা পেঁয়াজ আমদানি করব না।’ 

দি ইকোনমিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন বলছে, পেঁয়াজ উত্পাদনকারী কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে গত সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। এরপর আশা করা হয়েছিল, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বাজারে আসবে, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টির কারণে নতুন পেঁয়াজও আসতে দেরি হয় এবং উত্পাদিত ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়, এতে পেঁয়াজ সরবরাহ কমে আসে। এই অবস্থায় ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম গত ছয় বছরের মধ্যে রেকর্ড গড়ে। 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড হর্টিকালচার ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, ভারতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ উত্পাদনকারী অঞ্চল মহারাষ্ট্রের নাসিকের পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক সরকারি কর্মকর্তাক উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই, নিয়ন্ত্রণে আসারও সম্ভাবনা নেই। আগামী জানুয়ারি নাগাদ পেঁয়াজের সরবরাহ অর্থবহ হবে। এরপর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ২০ টাকার নিচে নামলে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তোলার সুযোগ আছে, এর আগে নয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ভারতের বদলে মিয়ানমার, চীন, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে চাহিদা মেটাচ্ছে।  

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দেশে আদা-রসুনের বড় আমদানিকারক খাতুনগঞ্জের ফরহাদ ট্রেডিংয়ের মালিক নুর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি থেকে দেশে উত্পাদিত পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে আসবে। ফলে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত। তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে পুরোপুরি, অন্যথায় নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা