kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

অন্তর্কোন্দলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ

০ দুই উপজেলার পর এবার স্থগিত জেলা কমিটির সম্মেলন
০ জাতীয় সম্মেলনের পর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন কবে হবে তা কেউ জানে না
০ সম্মেলন স্থগিতের কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৩৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অন্তর্কোন্দলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ

অন্তর্কোন্দলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে তৃণমূলের পাশাপাশি জেলা কমিটির সম্মেলনের সময়সীমা বেঁধে দেন। ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে নভেম্বরের মধ্যে তৃণমূল সম্মেলন শেষ করার চূড়ান্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও নিজেদের দলাদলির কারণে ইতিমধ্যে স্থগিত হয়েছে বোয়ালখালী ও বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। 

আর এবার স্থগিত হলো জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনও। অভিযোগ উঠেছে, দলের সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের দলাদলির কারণে একের পর এক সম্মেলন স্থগিত হচ্ছে। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগসহ এর আওতাধীন সাংগঠনিক বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন আর হচ্ছে না। এ কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ তৃণমূল ও জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিই বহাল থাকছে। 

একের পর এক সম্মেলন স্থগিতের কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থগিত হওয়া এসব সম্মেলন কবে হবে তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। অভিযোগ উঠেছে, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতাদের বিরোধের কারণে এ সময়ে সম্মেলন হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে সম্মেলন করার ঝুঁকি নিচ্ছে না দল। 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আমাদের জেলা কমিটির (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) সম্মেলন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি আমরা (গতকাল) সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছি। দলাদলি কিংবা বিরোধের কারণে নয়, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-নগর আংশিক) আসনের উপনির্বাচন আগামী জানুয়ারিতে। এখন থেকে সবাই এই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। উপনির্বাচনের কারণে দক্ষিণ জেলা কমিটির সম্মেলন না করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’  

তিনি আরো বলেন, দলের জাতীয় সম্মেলন ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনের আগে দক্ষিণ জেলা কমিটির সম্মেলন হবে না। পরে কখন সম্মেলন হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

প্রায় ২২ বছর পর গত শুক্রবার বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বিবদমান দুই পক্ষ সক্রিয়। জেলার অনুমোদিত কমিটি সম্মেলনের আয়োজন করলে একই দিন অন্যপক্ষ পাল্টা সম্মেলনের ঘোষণা দিলে সংঘাতের আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। 

একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলায়। তাঁর এলাকায় আওয়ামী লীগ বিভক্ত। সেখানে দক্ষিণের অন্যান্য উপজেলায় তৃণমূলের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমান করা যায়। 

বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল প্রায় ২৪ বছর আগে। সেই থেকে দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় এমপির অসহযোগিতার কারণে সেখানে সম্মেলন হচ্ছে না। 

এদিকে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। দক্ষিণের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটেও দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন হচ্ছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে দলীয় কার্যক্রম। এ নিয়ে তৃণমূল ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। এতে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছে। 

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, গত উপজেলা নির্বাচনে দক্ষিণের আওতাধীন লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র মনোনীত আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন জেলা ও উপজেলার একাধিক নেতা। দলীয় নেতাদের এই বিরোধের কারণে ওই দুই উপজেলায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হন। 

দক্ষিণ জেলার একাধিক নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূলে দলাদলি বেড়ে গেছে। গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বাঁশখালীতে জেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ অংশগ্রহণ করলেও আরেক পক্ষ বর্জন করেছে। 

২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর মোছলেম উদ্দিন আহমদকে সভাপতি ও মফিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে আরো চার বছর পার হতে যাচ্ছে। 

গত ৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৮ ডিসেম্বর। এ ছাড়া জেলার আওতাধীন বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর নগরীতে দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বর্ধিত সভায় আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা ছিল। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে নভেম্বরের মধ্যে তৃণমূল সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু উপজেলার পাশাপাশি হঠাত্ জেলা কমিটির সম্মেলনও স্থগিত করায় নানা প্রশ্ন উঠছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা