kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

গুজবে লবণের দাম বৃদ্ধি

অভিযুক্ত তিন ব্যবসায়ীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি    

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিযুক্ত তিন ব্যবসায়ীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

পেঁয়াজের চড়া ঝাঁজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লবণেও চড়া দাম হাকাচ্ছেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার কয়েকটি বাজারের ব্যবসায়ীরা। লবণের মূল্য বৃদ্ধির খবরে হিরিক পড়েছে বেচাকেনায়। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ লবণের দাম বৃদ্ধির খবরে বাজারে ছুটছেন লবণ কিনতে। খুচরা লবণ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। তবে প্যাকেটজাত লবণ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধিতে।

এদিকে রাত ৯টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এ ৪০ ধারা অনুযায়ী তিন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আফরোজ। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- চাড়াভিটা বাজারের ব্যবসায়ী বাদল দত্ত, মিঠুন দত্ত ও দিলিপ দত্ত। এর মধ্যে বাদল ও মিঠুনকে ছয় মাস ও দিলিপকে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের খানপুর বাজার থেকে মঙ্গলবার বিকেলে ৩০ টাকা দরে ৪ কেজি লবণ কিনেছেন ভ্যানচালক ওহিদুর রহমান।

একই বাজার থেকে কারেন্ট মিস্ত্রি রিপন হোসেন মোট ১২ কেজি লবণ কিনেছেন। প্রথমে ৪ কেজি ৩০ টাকা ও পরে ৮ কেজি ২০ টাকা দরে লবণ সংগ্রহ করেছেন তিনি। খানপুর বাজারের মুদি দোকানি মরিরুল ইসলামের কাছ থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাফিজুর রহমান ২ কেজি লবণ কিনেছেন ১০০ টাকায়। এর আগে বিকেল থেকে মনিরুল ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে আসছিলেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন তখন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লবণ কেনার হিরিক চলছিল খানপুর বাজারে।

এদিকে এ উপজেলার খাজুরা বাজারেও খুচরা লবণ বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক দামে। এখানে ১৬ টাকার লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। দাম বৃদ্ধির কারণে এ বাজারের দোকানিদের সঙ্গে বচসাও হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারের চালহাট খোলার রনির দোকান থেকে এক নারী ১৬ টাকা কেজি দরের ৩ কেজি লবণ কেনেন ৭৫ টাকায়। পরে গুজবের ওপর ভিত্তি করে লবণের দাম বাড়ানো হয়েছে- এমন খবর জানতে পেরে ওই নারী লবণ ফেরত দিতে যায়। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বচসা শুরু হয়। 

বাঘারপাড়া উপজেলার চাড়াভিটা বাজার, নারিকেলবাড়িয়া বাজার, ছাতিয়ানতলা বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানেও অস্বাভাবিক দামে লবণ বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে রাত ৭টার দিকে খাজুরা বাজারের স্বরূপ দত্তের গোডাউন থেকে ৫০ কেজির ৫ বস্তা লবণ পাচারের উদ্দেশে বের করা হয়। এ সময় পুলিশ দেখে লবণের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায় তারা। 

এ ব্যাপারে খাজুরা পুলিশ ফাঁড়ির টুআইসি সুবেন্দ্র কুমার পাল লবণ জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্বরূপ দত্তের গোডাউন থেকে প্রতিদিন ৪০/৫০ বস্তা লবণ বিক্রি হয়। হয়তো প্রতিদিনের বেচাকেনার অংশ হিসেবে ওই লবণ কিনতে এসেছিল কেউ। দিনের বেলা কয়েকজন ব্যবসায়ী একটু বেশি দামে লবণ বিক্রি করেছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে স্থানীয় বাজারে টহল দেওয়া হচ্ছে। কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তবে খুচরা লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে আগের দামের চেয়ে ২ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধিতে। লবণের দাম বৃদ্ধিও গুজবে যাতে কেউ সুবিধা না নিতে পারে সেজন্য সজাগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি দলের দায়িত্বশীল নেতারা।

ধলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তার নিজ এলাকা ধলগ্রাম বাজারে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়েছিল। পরে তিনি বাজার ব্যবসায়ীদের বেশি দামে লবণ বিক্রি না করার নির্দেশ দেন। 

বাঘারপাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন জানান, উপজেলা সদরের কোথাও লবণের দাম বৃদ্ধি পায়নি। মৌখিকভাবে দোকানীদের সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার সকালে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিষয়টি জানানো হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ উল্লেখিতদের সাজা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ী যদি লবণে একটাও বেশি নেন- তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন ও ব্যবসায়ীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে ফের মাইকিং বের হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা