kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

লাকসামে রেলওয়ের জায়গায় শত শত অবৈধ স্থাপনা

অদৃশ্য কারণে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ!

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অদৃশ্য কারণে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ!

দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের জায়গা উদ্ধারে দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও লাকসামে রেলওয়ের জায়গা উদ্ধারে অভিযান বন্ধ রয়েছে। এখানে অবৈধ স্থাপনা এবং বিভিন্ন কলোনির বাসা-বাড়িতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে এখনো বন্ধ রয়েছে। 

রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ওই দিন রেলওয়ের জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য দিন ধার্য ছিল। সেই মোতাবেক গত ৬ নভেম্বর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের নোটিশও প্রদান করে। কিন্তু অজানা কারণে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এখন জনমনে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে গত সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ রেলওয়ে কয়েকটি কলোনি পরিদর্শন করে বাসা-বাড়িতে অবৈধ বসবাসকারীদের সরিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়ে দায় সারেন।  

অপরদিকে অভিযানের খবর পেয়ে বিভিন্ন কলোনির বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার আগেই নিজেদের উদ্যোগে মালামাল সরিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। এতে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে বাসা-বাড়িগুলো। অরক্ষিত বাসাগুলো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সিলগালা না করায় এখানে মাদকসেবীদের আড্ডাসহ অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

লাকসাম রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এখানে বিভিন্ন কলোনিতে ৪৩২টি বাসা রয়েছে। তার মধ্যে ২৭৫টি বাসায় অবৈধভাবে বসবাস করছেন কতিপয় রেলওয়ের কর্মচারী। আবার ওই সব কর্মচারী ওই গুলো ভাড়া দিয়ে রেখেছে। এ ছাড়া, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির লাইন সংযোগ দিয়েছে। মূলত এখানে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং গুটিকয়েক প্রভাবশালী রেলওয়ের জায়গা দখল করে জায়গা ভাড়া দিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রেল কর্মচারী জানান, অবৈধ বসবাসকারীরা বাসা-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় ব্যক্তিগত মালামালের সঙ্গে রেলওয়ের কিছু মালামালও সরিয়ে নিয়ে গেছেন। তাদের অভিযোগ, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা কতিপয় প্রভাবশালীর অবৈধ দখলে থাকা বাসা-বাড়ির ধারে-কাছেও যায়নি।

একটি সূত্র জানায়, লাকসাম রেলওয়ে জংশনের বিভিন্ন কলোনি ছাড়াও জংশন বাজার, দৌলতগঞ্জ বাজারে রেলওয়ের জায়গায় প্রায় দেড় হাজারের বেশি অবৈধ দখলদার রয়েছে। সাধারণ নাগরিকের দাবি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করা হোক। এ ছাড়া, উদ্ধার করা জায়গায় দরিদ্র পরিবার বা প্রতিষ্ঠানকে বৈধভাবে ইজারা প্রদানের জন্য তারা দাবি জানান।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা