kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সকালে যোগ দিয়ে বিকেলেই সভাপতি জামায়াত-শিবির পরিবারের সন্তান!

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সকালে যোগ দিয়ে বিকেলেই সভাপতি জামায়াত-শিবির পরিবারের সন্তান!

আওয়ামী লীগের চলমান তৃণমূল সম্মেলনে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ঘটেছে বিস্ময়কর ঘটনা। সকালে আওয়ামী লীগে নাম লিখিয়ে বিকেলেই তিনি হয়ে গেছেন ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি। ফেরদৌস ওয়াহিদ শামীম নামে জামায়াত-শিবির পরিবারের এ ‘কীর্তিমান’ সন্তান নিয়ে স্থানীয়ভাবে চলছে সরস আলোচনা। মহেশখালী দ্বীপের হোয়ানক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রবিবার এ কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্র জানায়, দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার আকতার হামিদ ছিলেন জামায়াতের প্রয়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের দেহরক্ষী। আকতার হামিদ ৩৫টি মামলার পলাতক আসামি। ৩০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হামিদের চাচাতো ভাই নব্য আওয়ামী লীগ নেতা ফেরদৌস ওয়াহিদ শামীম। নির্বাচিত সভাপতি শামীমসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় মিলে রবিবার সকালে ৬৪ জন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। আলোচিত ওয়ার্ডটিতে কাউন্সিলরের সংখ্যা ১৫১ জন হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২১৫ জন করা হয়। এদিন কাউন্সিলর হওয়া বেশির ভাগই আগে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক প্রভাব বজায় রাখতে তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

মহেশখালী দ্বীপের হোয়ানক ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দা ‘জামায়াতঘেঁষা’ বলে পরিচিতি আছে। ৩০ অক্টোবর এই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ‘কৌশলী’ নির্বাচনের মাধ্যমে এক রাজাকারপুত্রকে ওয়ার্ড সভাপতি ও বিএনপি পরিবারের সন্তানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ভোটকেন্দ্র ঘিরে রাখছেন জামায়াত-শিবির পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা প্রভাব খাটিয়ে পদ দখল করে নিচ্ছেন তৃণমূল কমিটিতে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘দলে কৌশলী নির্বাচনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ করা জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে যেসব লোকজন দলে ঢুকে পড়েছে তাদের কমিটিও বাতিল করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম জফুর বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডটিতে জামায়াত-শিবির পরিবারের প্রভাব আছে। যিনি সভাপতি হয়েছেন তাঁকে দলে নতুন তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি নির্বাচন করবেন না বলে কথা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক প্রার্থী হওয়ায় আর কিছুই করার ছিল না।’

মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ‘হোয়ানক ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচিত সভাপতি জামায়াত পরিবারের সন্তান। শামীমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। তাঁর পিতা মোহাম্মদ ফেরদৌসের নামেও হত্যা, অপহরণ, মারামারিসহ অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে। গোলাম আযমের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত আকতার হামিদ এ পরিবারেরই সন্তান।’

নবনির্বাচিত সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ শামীম সকল অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ও পরিবারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা