kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতি

আরো এক ইসিকর্মী গ্রেপ্তার

সরকারি কর্মী হওয়ায় গ্রেপ্তারে অনুমতি নিতে হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরো এক ইসিকর্মী গ্রেপ্তার

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে অনুমতি পাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় গত এক সপ্তাহে ইসির তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। চাঞ্চল্যকর মামলায় এ নিয়ে এনআইডি জালিয়াতিচক্রের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে চারজন চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মচারী।

তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘এনআইডিসংক্রান্ত মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

সরকারি কর্মচারী হওয়ায় নাজিমকে গ্রেপ্তারের আগে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজেশ।

নগরীর কোতোয়ালি থানায় ডবলমুরিং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমার দায়ের করা মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, লাকী নামের এক নারী গত ১৮ আগস্ট স্মার্ট কার্ড তুলতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে তাঁর হাতে থাকা পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জেরার মুখে লাকী নিজের প্রকৃত নাম রমজান বিবি এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পর টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ছিলেন বলে স্বীকার করেন। এই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে ওই জাল এনআইডি তৈরি করেন। অথচ ওই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে।

এ ঘটনার পর রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও এনআইডি পাইয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজতে অভিযান শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) আলাদাভাবে এ বিষয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। জালিয়াতচক্র টাকার বিনিময়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

এ ঘটনায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জন হলেন ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদিন, জয়নালের বন্ধু বিজয় দাশ ও তাঁর বোন সীমা দাশ ওরফে সুমাইয়া, এনআইডি প্রকল্পের কারিগরি সহায়ক মোস্তফা ফারুক, প্রকল্পের কারিগরি বিশেষজ্ঞ শাহনুর মিয়া, কোতোয়ালি থানার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. শাহীন, বন্দর থানার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. জাহিদ এবং ডবলমুরিং থানার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পাভেল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আবুল খায়ের ভুঁইয়া (৪৫), মিরসরাই উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন (৪৫)। 

তাঁদের মধ্যে আদালতে জয়নাল, মোস্তফা ও শাহনুর জবানবন্দি দিয়েছেন। তাতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মচারীসহ এনআইডি জালিয়াতিতে অন্তত ৩০ জনের নাম এসেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান। এর মধ্যে কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার নামও এসেছে তাঁদের জবানবন্দিতে। তবে সরকারি কর্মচারী হওয়ায় গ্রেপ্তারের আগে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব ছিল না। ফলে বেশ কিছুদিন ঝিমিয়ে ছিল তদন্ত। তবে গত ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মামলাটি আবার সচল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা