kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

উলিপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়?

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উলিপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়?

এক মাস আগে বদলির আদেশ, এরপর তিন দফা চার্জ হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়ার পরও দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না কুড়িগ্রামের উলিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মনোয়ারুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, একটি খাদ্য ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সাথে অনৈতিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় তাদের খুঁটির জোরে কর্তৃপক্ষের বদলির আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন ওই কর্মকর্তা।

খাদ্য ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম উলিপুর খাদ্য গুদামে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করে একটি রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করেন। এ ছাড়াও মিল মালিকদের কাছ থেকে ছাঁটাইকৃত চাল না কিনে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল কাগজে কলমে ক্রয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে তাকে বদলির নির্দেশ দেন।

এরপর গত ১৬ অক্টোবর রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবির তাকে বদলি করে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অফিসে যোগদানের নির্দেশ দেন। এই আদেশ পাওয়ার পর তিনি ওই বদলি আদেশ ঠেকাতে ঢাকায় যান।

এদিকে গত ৫ নভেম্বর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল কাদের আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তার বদলি আদেশ কার্যকর করার জন্য মনোয়ারুল ইসলামকে চিঠি দেন। এরপরও ওই অসাধু কর্মকর্তা দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে গত ১১ নভেম্বর আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা আজ সোমবারের মধ্যে তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সীমা বেধে দিয়ে পুনরায় চিঠি দেন।

এদিকে মনোয়ারুল ইসলামের স্থলে দায়িত্ব নিতে আসা আমজাদ বলেন, তিনি এক মাস থেকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য উলিপুরে এসে বসে আছেন। বদলি হওয়া মনোয়ারুল ইসলামকে একমাস ধরে বিভিন্ন সময় ফোন করেই যাচ্ছেন। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করছেন না এবং দায়িত্বও হস্তান্তর করছেন না। 

এ ব্যাপারে মনোয়ারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গুদামে কিছু কাজ বাকি থাকায় তিনি আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তার বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন না। দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করা হবে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভায়োলেশন হবে না’।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অ.দা.) আব্দুল কাদের জানান, মনোয়ারুল ইসলামকে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা রায়হানুল কবীর জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বদলি আদেশ কার্যকর না হলে, ‘বদলি নীতিমালা ২০১৯’ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা