kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

অবশেষে ‘ছায়া পরীক্ষা’ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে সেই মাহিবুল

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অবশেষে ‘ছায়া পরীক্ষা’ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে সেই মাহিবুল

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা দেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কেন্দ্রের গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই প্রতিবন্ধী মাহিবুল অবশেষে ‘ছায়া পরীক্ষা’ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো আবারও গেটে দাঁড়িয়ে থাকায় বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসন এ ছায়া পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গতকাল রবিবার প্রথম দিনও পরীক্ষা দেওয়ার বাসনায় পুরো আড়াই ঘণ্টা গেটে দাঁড়িয়েছিল মাহিবুল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অফিসার রেজাউল করিম জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি নজরে এলে সোমবার সকালে আবারও মাহিবুলকে গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পালের সাথে আলোচনা করেন। পরে মাহিবুলকে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে পরীক্ষার আদলে এক ছায়া পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সেই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে শুধুই শিশু মনের মাহিবুলকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য। তবে আইনি জটিলতার কারণে কোনো মূল্যায়ন করা হবে না বা ফলাফলও দেওয়া হবে না। তবে কোনো নিয়মিত পরীক্ষার কেন্দ্রে নয়, সে পরীক্ষা দেবে পার্শ্ববর্তী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন স্মৃতি বাক, শ্রবণ ও অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার থেকে এ পরীক্ষার সুযোগ পাবে সে।

মাহিবুলের বাবা কামরুল আহসান খান জানান, প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনের বাংলা পরীক্ষা দেওয়ার জিদ ধরে মাহিবুল। তাই উপায় না দেখে তাকে নিয়ে আবারও এসেছিলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে। স্কুল ড্রেস পরে পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের গেটে দাঁড়িয়ে একই কথা সে পরীক্ষা দিতে চায়।

উল্লেখ্য, উপজেলার নওশেরা মহল্লার শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মাহিবুল ড. এমদাদ খান ও ছেতেরা খান অর্কা কৃষি ও কারিগরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। পরীক্ষা দেওয়ার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নেই ভেবে বাবা-মা এ বছর পরীক্ষার জন্য ডিআরভুক্ত না করায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা