kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

উল্লাপাড়ায় 'রংপুর এক্সপ্রেস' লাইনচ্যুত

দুর্ঘটনার দিন-ও কি এভাবেই ঘুমিয়ে ছিলেন তারা?

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্ঘটনার দিন-ও কি এভাবেই ঘুমিয়ে ছিলেন তারা?

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় 'রংপুর এক্সপ্রেস' ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৬ বগি লাইনচ্যুত ও আগুনের ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের দুটি কমিটি। সোমবার সকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে তদন্ত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

এদিকে গত ১৪ নভেম্বর দুর্ঘটনার দুই দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উল্লাপাড়া স্টেশন মাস্টারের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরতদের গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আর তদন্ত কমিটির সদস্যরা ছবির বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আস্বস্থ করেছেন। 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লাপাড়া স্টেশন মাস্টারের কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার এই ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তার পেছনের ঘড়ির কাঁটাটিও বলছে দুর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তের সময় এটি। আর এই ছবিটিকে ঘিরেই এখন স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানা আলোচনা। স্থানীয়রা মনে করছেন রেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই ১৪ নভেম্বর রংপুর এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। 

স্থানীয় জলিল আহম্মেদ জানান, স্টেশন মাস্টারের কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গত দিন ২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। আর এই সময়টাতেই তাদের ঘুমিয়ে থাকার ছবি দেখা গেল। হয়তো দুর্ঘটনার দিনও তারা এভাবেও ঘুমিয়েছিল। লিয়াকত হোসেন জানান, দুর্ঘটনার দুই দিন পর তাদের দায়িত্বের যে ছবি দেখা গেল তা দেখে আমরা সবাই অবাক। 

তবে অভিযুক্ত উল্লাপাড়া স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম বলছেন, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করার কারণে ক্লান্তিতে অনেক সময় চেয়ারে গা এলিয়ে দেন ঠিকই। তবে কর্তব্যে অবহেলা করেন না তিনি। 

এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানালেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্টেশন মাস্টারের ঘুমিয়ে পড়ার ছবিটি তদন্ত কমিটির চোখ এড়ায়নি। সেটি নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদের জানান, রেলে কর্মরতসহ স্থানীয় প্রত্যক্ষর্দশীদের সাথে কথা বলা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনায় কারো গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি। সুষ্ঠভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিহির কান্তি গুহ জানান, ঠিক কি কারণে ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য এরই মধ্যে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ছবির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের জনবল কম থাকায় অনেক কাজের সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান রেলের জিএম।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা থেকে রংপুরগামী 'রংপুর এক্সপ্রেস' ট্রেনটি উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছার আগে এর ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগিতে আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আটজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা