kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

পত্নীতলার গ্রামীণ মেলায় দেশীয় আসবাবপত্র বিক্রয়ের ধূম!

ধামইরহাট-পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:০৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পত্নীতলার গ্রামীণ মেলায় দেশীয় আসবাবপত্র বিক্রয়ের ধূম!

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড় ও দেশীয় তৈরি আসবাবপত্র কেনা-কাটার ধূম। নবান্ন উৎসবের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের ন্যায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে যুগযুগ ধরে পঞ্জিকা মতে, কার্তিক সংক্রান্তিতে পদ্ম পুকুর ক্ষিতিশা কালি মন্দিরে কালিপূজা উপলক্ষে এ মেলা বসে।

জানা যায়, নবান্ন উপলক্ষে জামাই-মেয়েদের স্বজনপ্রীতি জোরদার এবং পহেলা অগ্রহায়ণ ক্ষীর-পায়েস-পোলাও, নতুন চালের আটার তৈরি ভাপা পিঠা, খেঁজুর রসের তৈরি রসালো গুড় ও মাংস খাওয়ার ধূম পড়ে যায় স্থানীয় বাড়ি-বাড়িতে। আর রাত পোহালেই শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী পদ্মপুকুর হুরের মেলা। এ মেলায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষ সংসারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা-কাটা করতে ভীড় জমায়। বিশেষ করে মেলায় কাঠের তৈরি খেলনা ও সংসারে ব্যবহার সামগ্রী বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

মেলায় দেশীয় তৈরি আসবাবপত্রসহ সকল প্রকার খাদ্য, তরকারি, খেলনা, জুতা ও কাপড়ের দোকান এবং কামাড় শিল্পের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তৈষজপত্রসহ সকল প্রকার দোকান বসে। তবে শিশু ও কিশোরীদের চুড়িপট্টিতে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। আত্মীয়দের আপ্যায়নে রসগোল্লা ও জিলাপি প্রচুর বিক্রি হয়।

এ ছাড়াও কাঠের ও প্লাস্টিকের খেলনা বিভিন্ন ধরনের গাড়ি পাওয়া যায়। কামার শিল্পের তৈরি দা, ছুরি, কোদাল, বটি, চাকুসহ অন্যান্য জিনিসপত্র প্রকারভেদে বিভিন্ন দামের বিক্রয় হয়। মাটির তৈরি রঙ-বেরঙের কারুকার্যপূর্ণ দৈনন্দিন ব্যবহার্য হাড়ি-পাতিল, ঢাকনা, মটকি, ব্যাংক ইত্যাদি জিনিসপত্র পাওয়া যায়। 

কুমার শিল্পরা জানায়, আধুনিকতায় ছোয়ায় কুমার শিল্প আজ হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও তারা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখেন শুধু বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে। কেননা, এ পেশায় থাকতে না পেরে আজ অনেকেই অন্য পেশায় বর্তমান সংসার টিকিয়ে রাখছেন। 

মেলায় আসা এক দর্শনার্থী জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সাথে কলা হলে তিনি জানান, হাট-বাজার হতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে দেশিয় তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনা সম্ভব হয়। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, মেলায় মালামাল দ্রুত বিক্রয় হয়ে থাকে। আর কোন মাল ফিরে যায় না। তাই সাধারণ হাটে-বাজারের তুলনায় মেলায় বিক্রয় হয় বেশি। এতে তারা যেমনি খুশি, তেমনি ক্রেতারাও খুশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা