kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

সিঙ্গাইরে ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন শামীমকে হত্যার চেষ্টা

সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিঙ্গাইরে ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন শামীমকে হত্যার চেষ্টা

ইকবাল হোসেন শামীম

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ইকবাল হোসেন শামীম (৪০) নামে এক তরুণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে মাহবুব খান নামে আরো এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ফোর্ডনগর আদর্শ গ্রামস্থ আকতার ফার্নিচার ফ্যাক্টরির সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী শামীম ও মাহবুব খানকে ঢাকার সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ইকবাল হোসেন শামীমকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এলিগ্যান্স ফার্নিচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিঙ্গাইর ফোর্ডনগর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন শামীমের সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের আলম খাঁন (৫০), বক্কার খাঁন (৪০) ও নাজির খানের ৩৮) বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়াও বক্কার খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে এক নারীকে গণধর্ষণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রয়েছে। আদালতে বিচারাধীন রয়েছে একাধিক মামলা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী আবু সালাম জানান, ইকবাল হোসেন শামীম গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোর্ডনগর আদর্শ গ্রামস্থ আকতার ফার্নিচার ফ্যাক্টরির সামনের সড়ক দিয়ে প্রাইভেটকারে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে আকতার ফার্নিচার ফ্যাক্টরির গেটের সামনে পৌঁছলে প্রথমে বক্কার খাঁন (৪০) ছালাম দিয়ে জরুরি কথা আছে বলে শামীমকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। গাড়ি থেকে নেমে কথা বলার এক পর্যায়ে বক্কার খাঁনসহ সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা আলম খাঁন (৫০), নাজির খান (৩৮), রবিন খান (২০), রুবেল খান (২৩) খোকন খান (২৮) ও সাগরসহ (৩২) অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জন লোক দেশীয় তৈরি ধারাল অস্ত্রশস্ত্র রামদা, চাপাতি, লোহার রড, হাতুরি ও লাঠিশোডা নিয়ে ইকবাল হোসেন শামীমের ওপর হামলা করে।এ সময় শামীমকে রক্ষার জন্য একই এলাকার মাহবুব খান এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকাস্থ সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইকবাল হোসেন শামীম বলেন, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। আল্লাহর অশেষ কৃপায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি। আমাকে রক্ষার জন্য মাহবুব খান এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় তার পিতা মোস্তফা মিয়া ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত নাজির খান অন্যরা ইকবাল হোসেন শামীমের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় শামীম ও তার লোকজন আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাদের এমন দাবি নাকচ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক প্রত্যেক্ষদর্শী জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শামীমের ওপর হামলা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শামীমকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পর নাজির খান, তার ভাই ও ভাতিজারা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে পুলিশ খবর দেয়। 

এদিকে তরুণ ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন শামীমকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় এলাকার সর্বমহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা পুলিশ প্রশাসনকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ন্যাক্কার জনক ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন। 

থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আব্দুর সাত্তার মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা