kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়েই ছুটছেন ট্রেন চালক!

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়েই ছুটছেন ট্রেন চালক!

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টগ্রাম মেইল (টু ডাউন) ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছার সময় রাত আড়াইটা। আর নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১ আপ) ট্রেন আখাউড়া থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিট। সাধারণত চট্টগ্রাম মেইল চালিয়ে আসা চালককেই উপকুল এক্সপ্রেস নিয়ে ঢাকায় যেতে হয়। রেলওয়ের ভাষায় এটাকে 'লিঙ্ক' বলে। কয়েক বছর ধরে চলে আসা লিঙ্ক মানতে গিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন না চালকরা। ঘটছে দূর্ঘটনা। তবে সম্প্রতি কসবার মন্দবাগে ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়া তূর্ণা নিশিথার চালক প্রায় ২৫ ঘন্টা 'বিশ্রাম' পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়,  রেলওয়ের নিয়ম অনুসারে ট্রেন চালিয়ে আসার পর একজন চালককে আট ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হয়। তবে জরুরি ক্ষেত্রে সেটা কমপক্ষে ছয় ঘন্টা হতে হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম মেইল ও উপকুল এক্সপ্রেস লিঙ্কের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। শনিবার দেখা গেল এমনই এক 'অনিয়ম'। চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের চালক অনল কুমার বিশ্বাসকে ঘন্টা পাঁচেকের মতো বিশ্রাম নিয়েই ছুটতে হলো উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে। তবে উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেন দেড় ঘন্টার মতো বেশি সময় বিলম্ব থাকায় কিছুটা সময় বেশি পান তিনি।   

জানা যায়, চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন থেকে ভোর পৌণে তিনটায় আখাউড়া স্টেশনে নামেন অনল কুমার বিশ্বাস। বিশ্রামে যেতে যেতে বাজে সাড়ে তিনটা। আটটার মধ্যেই আবার উঠার ‘তাগাদা’ উপকুল এক্সপ্রেসে নিয়ে যাওয়ার। তবে ওই ট্রেনটি বিলম্বে থাকায় আরো কিছুক্ষণ বিশ্রামের সময় পেলেন। আবার ট্রেনে উঠলেন সকাল সাড়ে ১০টার কিছু সময় পর। সর্বসাকুল্যে ঘন্টা পাঁচেক বিশ্রামের সুযোগ পেলেন চালক অনল কুমার বিশ্বাস। এভাবে প্রায়ই চালকদেরকে নিময়মাফিক প্রাপ্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়েই ছুটে চলতে হচ্ছে দিনের পর দিন। রেলপথে চালক সংকটের কারণে এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা।

রেলওয়ে সূত্র মতে, বর্তমানে পাঁচ ক্যাটগরির ৩৫ শতাংশ চালকের সংকট রয়েছে। গত ১০ বছরে ট্রেন দ্বিগুন বাড়লেও চালক বাড়েনি। ২০১৪ সালের পর থেকে চালকদের ভুলে দুর্ঘটনা বেড়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে জংশনের লোকোশেডের অধীনে মোট ৫৯ জন চালক কর্মরত আছেন। সেখানকার চালকরা ৫০টির মতো ট্রেন নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটে চলেন। যে কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম পাচ্ছে না চালকরা। রেল দূর্ঘটনার পর পরই সব সময় আলোচনায় আসে  চালকদের ঘুম ও বিশ্রামের বিষয়। সেক্ষেত্রে কসবার মন্দবাগে ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়া তূর্ণা নিশিথা এক্সপ্রেসের চালক পর্যাপ্ত সময় বিশ্রাম পেয়েছেন। ওই চালক ট্রেন চালিয়ে চট্টগ্রাম আসার প্রায় ২৫ ঘন্টা পর নিশিথা এক্সপ্রেস নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।   

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা যায়, শনিবার উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টা ১০ মিনিটে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। নোয়াখালী থেকে চালিয়ে আসা চালক আখাউড়া নেমে এখান থেকে আরেকজনের উঠার কথা। এর মধ্যে ‘নির্ধারিত’ চালক পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়। তখন চালক অনল কুমারকে উপকুল এক্সপ্রেস নিয়ে যাওয়ার কথা জানালে তিনিও পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিষয়টি জানান। এক পর্যায়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে তিনি ট্রেনে চড়েন। এর মধ্যে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ‘পাস’ দেয়া ও চালক নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় উপকূল এক্সপ্রেস প্রায় আধা ঘন্টা পর বেলা পৌণে ১১টার দিকে আখাউড়া ছেড়ে যায়।       
এ বিষয়ে কথা হলে চালক অনল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা তো চাই নিয়ম অনুসারে বিশ্রাম নিয়েই আরেকটি ট্রেনে উঠতে। কিন্তু প্রয়োজনের কারণে এক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না। শনিবার উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন নির্ধারিত সময় থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা বিলম্ব থাকায় বরং বিশ্রামের সময় বেশি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষ আমাকে বিষয়টি জানাতে দেরি হওয়ায় কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু চট্টগ্রাম মেইল ও উপকূলের লিঙ্ক যেভাবে করা আছে তাতে নিয়ম অনুযায়ি বিশ্রামের সময় কম পাওয়া যায়। তবে ঘন্টা তিনেকের জার্নি বলে খুব একটা সমস্যা হয় না।’

আখাউড়ার উধ্বর্তন উপ-সহকারি প্রকৌশলী (লোকোশেড ইনচার্জ) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘উপকুল এক্সপ্রেস বিলম্ব থাকায় চট্টগ্রাম ট্রেন নিয়ে আসা চালক প্রায় সাত ঘন্টার মতো বিশ্রাম পেয়েছেন। তবে দুইটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করলে বিশ্রামের সময় কিছুটা কম পাওয়া যায়। নিয়ম অনুসারে ছয় থেকে আট ঘন্টা বিশ্রাম নিলেই হয়। আখাউড়ার অধীনে মোট ১৪ জন চালক কর্মরত আছেন, যাদেরকে এখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাতে খুব বেশি সমস্যা হয় না।’

ঢাকার কমলাপুরের লোকো ইন্সপেক্টর (ভারপ্রাপ্ত লোকোশেড ইনচার্জ) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই চালকের বিশ্রামের বিষয়ে সতর্ক আছি। মন্দবাগে ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকে আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা