kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

সোনামসজিদ স্থলবন্দর

ভারত থেকে পাথর আমদানীতে জটিলতার শঙ্কা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারত থেকে পাথর আমদানীতে জটিলতার শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানীকৃত পাথরে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আমদানীতে জটিলতার চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাল রবিবার থেকে আগের নিয়ম প্রত্যাহার করে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বিএলপিএ ) ও বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

গত ৯ ও ১৪ নভেম্বর সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উন্নয়ন, কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায় বিষয়ে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য ( ট্রাফিক) ও যুগ্ম সচিব ড. শেখ আলমগীর হোসেন।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সভার ফলোআপ ছিল বৃহস্পতিবারের মতবিনিময় সভা। তবে আমদানীকারকরা জানান, সিদ্ধান্ত ছাড়াই মতবিনিময় সভা শেষ হয়, আমরা আমাদের অপারগতার কথা তুলে ধরেছি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য ( ট্রাফিক) ও যুগ্ম সচিব ড. শেখ আলমগীর হোসেন, বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন, জেলা চেম্বার, আমদানীকারক গ্রুপ, সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিসহ বন্দর সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড এর সিদ্ধান্ত অনুসারে পাথর আমদানীকারকরা আর আগের মতো ট্রাক প্রতি ৭৮৩ টাকা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আনলোড করতে পারবে না।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, রবিবার থেকে বন্দর চত্বরে আনলোড করতে হবে এবং টন প্রতি সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি বাবদ টন প্রতি ১০০-১১০ টাকা দিতে হবে আমদানীকারকদের।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফএজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেসবাহুল ইসলাম জানান, গত ৯ নভেম্বর ও ১৪ নভেম্বর মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) ও যুগ্ম সচিব ড. শেখ আলমগীর হোসেন মতবিনিময় করেন। 

সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপের উপদেষ্টা কবিরুর রহমান খোকন জানান, রপ্তানিকারকদের অতিমুনাফা, ভারতের মোহদিপুর বন্দরে বিভিন্ন পণ্যভর্তি ট্রাক সোনামসজিদ বন্দরে আসতে ওপারে অহেতুক লোকাল ট্রাকে পণ্য পুনলোড করে বেশী ভাড়া প্রদানে বাধ্য করা, ইচ্ছাকৃতভাবে জট তৈরি করে বিলম্ব করিয়ে ট্রাক থেকে বিলম্ব ফি আদায়ে এমনিতেই লোকসানে পড়েছেন পাথর আমদানীকারকরা। তার ওপর সোনামসজিদ স্থরবন্দরে বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের মতো করে সুযোগ না দিলে এবং সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি বাবদ টন প্রতি পাথরের জন্য বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে টাকা দিতে হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কারোরই পক্ষে পাথর আমদানী করা সম্ভব হবে না। তাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে পাথর ভর্তি ট্রাকের জন্য গুনতে হবে ১৫২ টাকা প্রতিটন হারে এক ট্রাক পাথরের জন্য ৫০০০-৬০০০ টাকা, আগে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সবার সিদ্ধান্তেই ছিল ৭৮৩ টাকা।

তিনি আরো বলেন, শনিবার আমদানী ও রপ্তানীকারকদের মিটিং হবে। সেই মিটিংয়ে আমরা এসব বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। মনে হচ্ছে ৯ ও ১৪ নভেম্বরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

ভারত থেকে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে মাসে পাথরবাহী প্রায় সাড়ে তিন হাজার ট্রাকে এক লক্ষ দশ হাজার মেট্রিক টন পাথর আসে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এ থেকে রাজস্ব দিতে হয় টন প্রতি ৭৭২ টাকা। এ হিসেবে সরকার মাসে রাজস্ব আহরণ করে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা। আর বন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ প্রতি ট্রাকে যে ৭৮৩ টাকা নেয় তার ৪৯% পায় সরকার ৫১% পায় বন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আসা পাথর দেশের মেগা প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে। অন্য বন্দর থেকে ভারতের পাথর সমৃদ্ধ এলাকা সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পাকুড়ের দূরত্ব ( প্রায় ৫০ কি.মি.) কমের কারণে অনেক আমদানীকারক এই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানী করছেন বেশী অন্য বন্দরের চেয়ে। কয়েকমাস থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর ছাড়া অন্য পণ্য তেমন আমদানী বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেড এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন ও ডেপুটি পোর্ট ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম জানান, পাথর থেকে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী টোল ও ফি আদায় না হওয়া গত ১৩ বছরে অন্তত তিন শ কোটি টাকা পায়নি সরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা