kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

চোরাই পথে আসছে ভারতীয় পেঁয়াজ, চুনারুঘাটে কেজি ১৫০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চোরাই পথে আসছে ভারতীয় পেঁয়াজ, চুনারুঘাটে কেজি ১৫০

ফাইল ছবি

হবিগঞ্জে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৫০ টাকা কেজি। আর হবিগঞ্জের সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই মহুকুমায় পেঁয়াজ এর কেজি ৬৫ টাকা। বড় অংকের মুনাফা পাওয়ার আশায় এখন চোরাকারবীরারা নজর দিচ্ছে পেঁয়াজ আনার দিকে।

শুক্রবার রাতে দুটি পিকআপে প্রায় ৩৫০ বস্তা পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বিজিবি এই তথ্য অস্বীকার করেছে। স্থানীয় লোকজন পেঁয়াজ আসাকে ভালো চোখে দেখছেন। তারা অনুরোধ করেছেন এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য।

ভারত থেকে অবৈধভাবে পেঁয়াজ আসায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আসামপাড়া সীমান্ত এলাকার লোকজন ১৫০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করতে পারছেন। তারা অন্য সময় চোরকারবারীদের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকলেও কম দামে পেঁয়াজ পেয়ে তাদের প্রতি খুশি।

সীমান্ত এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, শুক্রবার রাতে বাল্লা সীমান্ত দিয়ে দুই পিকআপ পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে। এতে ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ বস্তা পেঁয়াজ হবে। এভাবে পেঁয়াজ আসলে বাংলাদেশের জন্য ভালো। আরো আসতে দেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে রিপোর্ট না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

এদিকে শনিবার দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলার আসামপাড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ফাতিমা। এ সময় তিনি দুটি পেঁয়াজের গুদামের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ দেখতে পান। আসামপাড়া বাজারের স্বপনের গুদামে তিনি ২১ বস্তা পেঁয়াজ থাকলে তার ক্রয় রশিদ দেখাতে বলেন। তারা কোনো ক্রয় রশিদ দেখাতে পারেনি। তবে তারা পেঁয়াজ বিক্রি করছিল ২৫০ টাকা কেজি দরে। তিনি এ সময় এই গুদাম সিলগালা করেন এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই অপরাধে ওই এলাকার সোহেল মিয়ার গুদামও সিলগালা করা হয়। সেখানে পাওয়া যায় ৫ বস্তা পেঁয়াজ।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ফাতিমা জানান, প্রতিটি বস্তায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি পেঁয়াজ ছিল। কিন্তু তারা কোনো ক্রয় রশিদ দেখাতে পারেনি। জব্দ করার পর স্বপন মিয়া এসে একটি ক্রয় রশিদ দেখান। যেখানে মূল্য দেখানো হয়েছে ৮৫ টাকা কেজি। জব্দকৃত পেঁয়াজ নিলামে অথবা খুচরা ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করা হতে পারে। 

তিনি আরো জানান, আমরা শুনেছি ভারত থেকে অবৈধভাবে পেঁয়াজ আসছে। তবে কোনো প্রমাণ পাইনি। জব্দকৃত পেঁয়াজের যেহেতু কোনো রশিদ পাওয়া যায়নি সেহেতু এগুলো ভারত থেকে চোরাই পথে আসা পেঁয়াজ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।

বাল্লা সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের বলেন, আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে। এখান দিয়ে কোনো চোরাই মাল প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা চোরাচালান বন্ধ করে দেওয়ায় কেউ কেউ আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা