kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

রিয়াদের মালিক নির্যাতন শেষে ২২ হাজার রিয়ালে সুমিকে বিক্রি করে দেয়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাবা মায়ের নিষেধ অমান্য করেই স্বামী নুরুল ইসলামে প্ররোচনায় পড়ে সৌদিতে পা দেন সুমি আক্তার (১৮)। কাজের কথা বললেও পরে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদিতে পাঠানো হয় তাকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সুমি আক্তারকে হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান সুমি। এ সময় তিনি সৌদিতে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের নির্যাতনকাণ্ডের বর্ণনা দেন।

সুমি আক্তার জানান, অষ্টম শ্রেণি পাশ করা সুমি দুই বছর আগে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে যোগ দেন। সেখানেই নুরুল ইসলাম নামে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ঢাকায় যাওয়ার ছয় মাস পর তাকেই বিয়ে করেন সুমি। গত ৩০ মে তার স্বামী নুরুল ইসলাম 'রূপসী বাংলা ওভারসিজ'র মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় তাকে সৌদি আরবের রিয়াদে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পর রিয়াদে প্রথম কর্মস্থলে মালিক তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতো, মারধর করতো, এমনকি হাতের তালুতে গরম তেল ঢেলে দিতো। চিৎকার করলে ঘরের ভেতর আটকে রাখা হতো। একপর্যায়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ওই মালিক তাকে না জানিয়েই সৌদি আরবের ইয়ামেন সীমান্ত এলাকা নাজরানের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ২২ হাজার রিয়ালে বিক্রি করে দেয়। 

তিনি জানান, ওই মালিকও একইভাবে তাকে শারীরিক ও মানুসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। উদ্ধার হওয়ার আগে ১৫ দিন তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়নি। তার নিজের ফোনটিও তারা নিয়ে যায়। একসময় খুব কান্না করে স্বামীর সঙ্গে একটু কথা বলার জন্য ফোনটি চান সুমি। বাড়ির মালিক তাকে ফোনটি দিলে বাথরুমে গিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে সুমি। সেই ভিডিওতে তিনি নিজের নির্যাতনের সব কথা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। ভিডিওটি সঙ্গে সঙ্গে তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে ওই ভিডিও তার স্বামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সুমিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। সৌদির জেদ্দা কনসুলেটের কর্মকর্তা আব্দুল হক সহযোগিতা করছেন বলেও বলেন সুমি। 

সুমি বলেন, আমি যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি তা সবাই ভিডিওর মাধ্যমেই জেনেছেন। আর নতুন করে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা না পেলে  উদ্ধার হতে পারতাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও আমাকে উদ্ধারের জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সুমির মা মল্লিকা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে সরকার নির্যাতন থেকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। এজন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পাঁচপীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির প্রধান বলেন, সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমিকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার স্বামীর কথা মতোই সে সৌদিতে যায়। সৌদিতে যারা এভাবে গৃহকর্মীদের নির্যাতন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। 

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৌদি থেকে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার বাংলাদেশে নিয়ে আসে। তাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তাকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা মল্লিকা বেগমের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এসময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা