kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ, কবর থেকে তোলা হলো শিক্ষিকার লাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ, কবর থেকে তোলা হলো শিক্ষিকার লাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্কুল শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়ার (২৯) ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠেছে। এই কারণে আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকার শেরপুর কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদের উপস্থিতিতে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এর আগে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন প্রসূতি নওশীনের বাবা শিহাব উদ্দিন গেন্দু। আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পরে রাতেই পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে মামলার আসামিরা হচ্ছেন, পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ার খ্রিস্টিয়ান মোমোরিয়াল হাসপাতালের ডা. ডিউক চৌধুরী, ডা. অরুনেশ্বর পাল অভি ও ডা. মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল। তাদের মধ্যে ডা. ডিউক চৌধুরী ওই হাসপাতালটির মালিক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সেফপাড়া ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা নওশীন আহম্মেদ দিয়া গর্ভবতী অবস্থায় গত ৩০ অক্টোবর খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার আগাম ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই নওশীনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হয় নওশীনকে। 

পরে গত ৪ নভেম্বর সকালে নওশীন প্রচণ্ড মাথা ব্যথা অনুভব করলে আবার ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. ডিউক চৌধুরীসহ ডা. অরুনেশ্বর পাল অভি, ডা. মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল ভুল ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ করার পর পরই নওশীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্বজনরা মেডিসিনের অভিজ্ঞ চিকিৎসক আনার জন্য বললেও ডা. ডিউক ও অন্যান্য ডাক্তাররা চুপ থাকেন। একপর্যায়ে নওশীনের মৃত্যু হলেও দুপুর একটার দিকে তার মুখে অক্সিজেনের মুখোশ লাগিয়ে ঢাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে পৌঁছলে সেখানে ডাক্তাররা কয়েকঘণ্টা আগেই নওশীন মারা গেছেন বলে জানান। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। ঘটনার তদন্ত করছেন তারা। আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আজ কবর থেকে নওশীনের লাশ উত্তোলন করে জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা