kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

ভারতে আটকে পড়া ইমরানের মায়ের আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস

মির্জা খালেদ, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে আটকে পড়া ইমরানের মায়ের আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস

ইমরান, এখনো মায়ের কাছে ফেরার অপেক্ষায়

‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ শান্তির স্থান মায়ের কোল’- ভারতে আটক কিশোর ইমরানের মা এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে। নিজের আইডিতে 'মায়ের কোলে ঘুমিয়ে রয়েছে শিশু' এমন একটি কার্টুনের সাথে লেখাটি প্রকাশ করেন তিনি।

শিশু ইমরান আজ ৮২ দিন ধরে মায়ের আদর ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। ভারতের একটি শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে মাতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়ে কষ্টকর অবর্ণনীয় দিনযাপন করছে সে। তার মায়ে দেওয়া স্ট্যাটাসের ছবিতে দেখা যায়, এক নারীর সামনের দিকে দু'পা বিছিয়ে দিয়েছেন। সেখানে মায়ের পায়ের ওপর নিরাপদে পরম মমতার আশ্রয়ে ঘুমাচ্ছে একটি শিশু। 

ইমরানের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী গ্রামে। গত ২৬ আগস্ট সে তার অভিভাবকের মালিকানা এফবি ইমরান নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে চড়ে শখের বশে অন্য জেলেদের সাথে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। কিন্তু সামুদ্রিক ঝড়ে হঠাৎ সে ছিটকে সাগরে পড়ে। খোঁজাখুঁজির পরও তাকে আর পাওয়া যায়নি। ইমরান প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে খাবি খাচ্ছিল। দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলে ইমরান। পরনের লুঙ্গির মধ্যে বাতাস ভরে প্রায় ১০ ঘণ্টা ভাসতে থাকে। হাতে একটি ফ্লট (বাতাস ভর্তি ছোট প্লাস্টিক বল) ছিল। গায়ে ছিল একটি সাদা গেঞ্জি। সন্ধ্যার আগে দূরে একটি ট্রলার দেখে গেঞ্জি উঁচিয়ে ইশারা দিলে ভারতীয় ট্রলার ‘এফবি বাবা পঞ্চানন’ এর চালক মনোরঞ্জন দাস তাকে উদ্ধার করেন। জেলেরা চার দিন তাদের সাথে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার রায়দিঘি থানায় পৌঁছে দেয়। 

সেখান থেকে তাকে জেলার ভোলাহাট থানার ‘নূর  আলী মেমোরিয়াল সোসাইটির’ একটি শিশু যত্ন ও সুরক্ষা কেন্দ্রে আশ্রয় প্রদান করা হয়। কেন্দ্রের সুপাররিনটেন্ড রুম্পা মূর্খার্জী কালে কণ্ঠকে জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর জেলার রায়দিঘি থানার শিশু সুরক্ষা কমিটির মাধ্যমে তাকে এখানে ভর্তি করা হয়। তার যথাযথ সেবা দেয়া হচ্ছে সরকারি আদেশ পেলে তাকে দেশে পাঠান হবে।

বিষয়টি নিয়ে কলকাতার বাংলাদেশে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে গত ১৭ অক্টোবর কালের কণ্ঠকে জানানো হয়, শিগগিরই শিশু ইমরান দেশে ফিরবে। কিন্তু মায়ের মন তো মানে না। ইমরান সহসা দেশে ফিরছে না দেখে তার মা ফেসবুকে তার নিজের পেজে ওই কার্টুনসহ স্ট্যাটাস দেন। অনেকে তাকে সহানুভূতির কথা লেখেন।  

ইমরানের মা একাধিকবার ভারতের সেই ‘নূর  আলী মেমোরিয়াল সোসাইটির’ একটি শিশু যত্ন ও সুরক্ষা কেন্দ্রের সুপার রুম্পা মূখার্জীর মাধ্যমে ফোনে কথা বলেছেন। ইমরান ফোনে তার মাকে দুর্বিসহ ও ভয়ংকর সাগরযাত্রার ঘটনা বর্ণনা করেছে। ১২ নভেম্বর ফোনে কথা হয় ছেলের সাথে। ইমরান তাকে কেঁদে কেঁদে বলেছে, 'মাগো, রাইতে গুমাইতে (ঘুম) পারি না, গুমের মধ্যে ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেহি। বড় বড় তুফান (সাগরের ঢেউ) গায়ের উপরে পরে ও পানির তলে নিয়া যায়’। 

ইমরানের মা কালের কণ্ঠকে জানান, ওর বাবা থেকেও নেই। আমিই ওর সব।  নির্ঘুম রাতে আমিও দুঃস্বপ্ন দেখি। মনে হয় প্রাণের টুকরা ছেলের সাথে গভীর সাগরে আমিও খাবি খাচ্ছি।  

বিষয়টি নিয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর সাথের কথা হলে কালের কণ্ঠকে আজ শুক্রবার তিনি বলেন, দ্রুত শিশু ইমরানকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে কথা বলবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা