kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

নবীনগরে বিএনপি'র কোন্দল: বিদায়ী মেয়রের বিরুদ্ধে সেক্রেটারির মামলা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরে বিএনপি'র কোন্দল: বিদায়ী মেয়রের বিরুদ্ধে সেক্রেটারির মামলা

মো. মাঈনুদ্দিন মাঈনু (বাঁয়ে) এবং আনিছুর রহমান মঞ্জু (ডানে)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার বিদায়ী মেয়র ও সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন মাঈনুকে ‘প্রধান আসামি’ করে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন । 

মামলায় বিদায়ী মেয়রের সাথে পদত্যাগ করা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রুবেলসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আদালতের নির্দেশে মাসলাটি রুজু (এফআইআর) করেছে। এ কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার নব নির্বাচিত মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাসের ‘দায়িত্ব গ্রহণ’ অনুষ্ঠানে গ্রেপ্তার আতংকে ওই বিদায়ী মেয়রকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। বিএনপির এই অভ্যন্তরীন কোন্দল এখন 'টক অব দ্যা টাউন'-এ পরিণত হয়েছে।

পুলিশ, মামলার এজাহার ও বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে জানা গেছে, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালন করার প্রাক্কালে গত ৭ নভেম্বর বিএনপির থানা কার্যালয়ের সামনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জুর ওপর পদত্যাগকারী ছাত্রদল নেতা হয়রত আলী ও রুবেলের নেতৃত্বে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। ওই সময় বিএনপি নেতা মঞ্জুকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ওই সময়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার চারদিন পর আহত মঞ্জু বাদী হয়ে গত ১১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিদায়ী মেয়রকে ‘প্রধান আসামি’ করে দ্রুত বিচার আইনে এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অনুসন্ধান সাপেক্ষে ‘এফআইআর’ করার জন্য নবীনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা বিএনপির সদ্য পদত্যাগকারী বিদায়ী মেয়র মাঈনুদ্দিন এবার উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আনিছুর রহমান মঞ্জুর ‘কূট কৌশল’র কারণে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনের আগেই মেয়র মাঈনউদ্দিন ও একাধিক ছাত্রদল নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেন। আর এর জের ধরেই বিক্ষুব্ধরা মঞ্জুর ওপর ওইদিন হামলা করে বলে সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মঞ্জু বলেন, প্রধান আসামির হুকুমেই অন্যান্য অভিযুক্তরা আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে অর্তকিতে হামলা চালিয়েছে। তাই আমি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
 
তবে মেয়র নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে তার কোনো কূট কৌশল ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ মামলার প্রধান আসামি বিদায়ী মেয়র মাঈনুদ্দিন মাঈনু বলেন, ঘটনার দিন আমি নবীনগরের বাইরে ছিলাম। এরপরও আমাকে এ মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আশা করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমি নির্দোশ প্রমাণিত হবো।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা