kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

সিডরের এক যুগ আজ

১২ বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বেতাগীর তাঁত শিল্পীরা

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী (বরগুনা)   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বেতাগীর তাঁত শিল্পীরা

সুপার সাইক্লোন সিডরের তাণ্ডবে পথে বসা বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি তাঁতি পল্লীর শিল্পীরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও ১২ বছরেও মেলেনি কোনো সহায়তা। বর্তমানে তারা বাপ-দাদার পুরানো পেশা ছেড়ে দিয়েছে।

উপজেলা সদর থেকে ৭ কি.মি দূরে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ সংলগ্ন কারিকর পাড়া। ৬ শতাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এখানে তাঁত শিল্পের গোড়া পত্তন শুরু হয় ২শ বছর পূর্বে। পাড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে সে সময় তাঁত বোনার খট খট শব্দে মানুষ থমকে দাঁড়াতো। রাজধানী শহর ঢাকা থেকে অত্যন্ত কষ্টে কাঁচামাল সংগ্রহের পর লুঙ্গী, চাঁদর, শাড়ি ও বিছানার কাপড় ও হরেক রকম গামছা বুনতো।

তাঁতিরা জানান, তৈরিকৃত মালামাল নিয়ামতি, বেতাগী বন্দরে বিক্রির পাশাপাশি বরগুনাসহ ঝালকাঠী, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হতো। এক সময় এখানে ৬৫টি পরিবারই তাঁত বুনতো, পরে ৪০টি পরিবার, কয়েক বছর আগের অন্তত ৫টি পরিবার তাঁতের কাজে আত্ম নিয়োগ ছিল। বিদেশি পণ্যের বাজার দখলে এর কদর কমে যাওয়ার পরেও দিনে সংগ্রাম করে যারা টিকে ছিল কিন্তু সিডরে তাদের সব শেষে, পরবর্তীতে আইলা। তাঁতের কাজ করে জীবন-যৌবন শেষ করেছেন এমনই একজন কারিকর আদম আলী (৮৩) জানান,  সিডরে ঘর সংস্কারের জন্য কিছু টাকা পেলেও এশিল্পে কোনো সহযোগিতা মেলেনি।

তাঁতি আছিয়া বেগম (৪০) অভিযোগ করেন, বাধ্য হয়েই এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। বংশ পরস্পরায় এখানের তাঁতিরা এ পেশায় জড়িয়ে পড়ে, বেছে নেয় জীবিকা অর্জনের প্রধান অবলম্বন হিসেবে। জানা যায়, তাঁতি পরিবারগুলোতে তাঁতের কাপড় বুনতে পারে না এর সংখ্যা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাঁতি পরিবারে মেয়েদের লেখাপড়া, সংসারে সহায়তা ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি তাঁতের কাপড় বুনা তাদের জাতিগত গুণ হিসেবে দেখা হয়। বিয়ে শাদীর ক্ষেত্রেও এ বিষয়কে যথেষ্ঠ গুরুত্ব প্রধান্য দেওয়া হতো।

এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা ও তাঁতিরা জানান, সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলে আবারো তারা বাপ-দাদার পেশায় ফিরতে চান। এজন্য পুনরায় পেশায় ফিরতে উদ্বুদ্ধকরণ, দীর্ঘ মেয়াদী সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও এ শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় একাধিক কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, এখানের উৎপাদিত পণ্যের এলাকায় প্রচুর কদর ছিল কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংশ্লিষ্টদের নজরের অভাবে তা শেষ হয়ে গেছে। 

বিবিচিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওয়াব হোসেন নয়ন বলেন, সিডরে তাদের সব শেষ করে দিয়েছে। তারপর থেকে এ শিল্পের পুনরুজ্জীবীত করার আর কোনো উদ্দ্যোগ নেই

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা