kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক!

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক!

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সদ্য এমপিওভুক্ত হওয়া মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আব্দুল হাকিম নামে একজন শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরির তথ্য গোপন করে তিনি এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। কাগজ-কলমে এই বিদ্যালয়ে জুলাই মাসের ১ তারিখে যোগদান দেখালেও গত জুলাই ও আগস্ট মাসে তিনি পূর্বে যোগদানকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলন করেন। আব্দুল হাকিমের এমন জালিয়াতির ঘটনায় উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৩ সালে ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের শরৎনগর বাজারে মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৮ সালের পহেলা জানুয়ারি পাঠদানের অনুমোদন পায় বিদ্যালয়টি। এর তিন বছর পর ২০১১ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বীকৃতি মেলে। ওই বছরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আব্দুল হাকিম। একপর্যায়ে ২০১৪ সালের পহেলা অক্টোবর আব্দুল হাকিম উপজেলার মাগুড়া দাখিল মাদরাসায় গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি এমপিভুক্ত হলে মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলের চাকরি ছেড়ে দেন। তখন মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নেন সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহিন শাহরিয়ার। 

এরপর চলতি বছর সারা দেশে ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য সকল শর্তাবলী পূরণ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তি প্রায় নিশ্চিত ছিল। তাই আব্দুল হাকিম দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে মাগুড়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক থেকেও এ বছরের পহেলা জুলাই মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর আব্দুল হাকিম মাগুড়া দাখিল মাদরাসা থেকে গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বেতনও উত্তোলন করেন। অথচ নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির গেজেটে পহেলা জুলাই থেকে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে। এতে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আব্দুল হাকিমের চাকরি নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ম্যানেজিং কমিটির ভয়ে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেননি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আব্দুল হাকিম গত জুলাই মাস থেকে একসাথে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন। এ অবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এমপিওভুক্ত হলে আব্দুল হাকিম মাগুড়া মাদরাসার সুপারকে ম্যানেজ করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ৩০ জুন তারিখ দেখিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হাকিম বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। দুই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সম্মতিতেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন তোলার ব্যাপারে তিনি বলেন, যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বেতন তিনি ফেরত দিবেন।

এই ব্যাপারে মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহিন শাহরিয়ার বলেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। সবকিছু বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ইচ্ছে মতো হয়েছে।

মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলের সভাপতি ডাক্তার গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা নাই। তবে এমন অনিয়ম হওয়ার কথা নয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে মাগুড়া দাখিল মাদরাসার সুপার জাকির হোসেনর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা