kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সিডরের এক যুগ আজ

এবার পিইসি পরীক্ষা দেবে সিডরে বেঁচে যাওয়া ডলি

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার পিইসি পরীক্ষা দেবে সিডরে বেঁচে যাওয়া ডলি

ঘূর্ণিঝড় সিডরের সাথে আট ঘণ্টা যুদ্ধ করে বেঁচে যাওয়া ১ মাস ১১ দিনের শিশু ডলি এ বছর কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। লেখাপড়া অদম্য বাসনা থাকলেও পারিবারিক দারিদ্রতাই তার প্রধান অন্তরায়। সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি তার কাছে নতুন গল্প। পরিবারের ১১ জন সদস্যকে হারিয়ে জেলে খলিল হাওলাদার এখন মুহ্যমান। স্বজনহারা বেদনা নিয়ে খলিল আজও কেঁদে ফিরছেন। বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন সিডরের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে যাওয়া ১ মাস ১১ দিনের শিশু কন্যা ডলিকে নিয়ে।

১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের সেই ভয়াবহ রাতের অজানা কথা বলে কাঁদলেন পরিবারের ১১ সদস্যকে হারিয়ে বেঁচে যাওয়া জেলে খলিল হাওলাদার। এ সময় ১ মাস ১১ দিনের ডলি বারবার তার হাত দিয়ে বাবার চোখের পানি মুছে দিচ্ছিল। সেদিন তার পরিবারসহ প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার ঘূর্ণিঝড় সিডরের সতর্কতা সংকেত উপেক্ষা করে আশারচরের শুটকী পল্লীতে বসবাস করেছিল। রাত ৯টার দিকে সিডর উপজেলার তালতলীর সমুদ্র উপকূলে আঘাত হানে। এ আঘাতের দৃশ্য দেখার জন্য বড় ভাই জলিল ও ভগ্নিপতি সোহরাফ বসতঘরের বাহিরে বের হয়। এরমধ্যে বাতাসের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সাগরের বিশাল ঢেউগুলো এসে আঘাত হেনে জলিলের বসতঘরটি লণ্ডভণ্ড করে দেয়। ওই সময় বসতঘরে থাকা ১৮ সদস্যের সবাই বিছিন্ন হয়ে পড়ে।

এ সময় খলিল তার বাবা খালেক হাওলাদার, মা নূরজাহান বেগম, স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ১ মাস ১১ দিনের ডলিকে আকড়ে ধরেন। ঢেউয়ের তোরে প্রথমে বাবা খালেক হাওলাদার পরে মা নূরজাহান বেগম স্রোতের তোড়ে তার হাত থেকে ছুটে যায়। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও ডলিকে নিয়ে খলিল একটি রশি ধরে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম স্বামী খলিলকে ডেকে বলেন, তোমার কন্যাকে তুমি নাও আমি আর পারছি না।

এই বলে কন্যাকে স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে স্রোতে জলিলের হাত থেকে স্ত্রী আনোয়ারা বেগমও ছুটে যায়। একা খলিল ডলিকে নিয়ে সাগরে ভাসতে থাকেন। কখনো তাকে দু’হাতে উপরে তুলে রাখেন, আবার কখনো মুখ দিয়ে ডলির গায়ে থাকা সোয়েটার কামড়ে ধরে রাখেন। তিন তিনবার মৃত ভেবে ডলিকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে আবার বেঁচে রয়েছে ভেবে বুকে আগলে ধরেন। এভাবে ৮ ঘণ্টা সাগরে ভাসতে থাকেন ডলিকে নিয়ে। ভোর সারে ৪টার দিকে ভাসতে ভাসতে একটি গাছের সাথে খলিল ও ডলি আটকে যায়। ওই সময় স্থানীয় লোকজন তাকে ও তার মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

জেলে জলিল হাওলাদার বলেন, সিডরের পরে বাবা খালেক হাওলাদারের রেখে যাওয়া ৩০ শতাংশ জমি বিক্রি করে কোন মতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ওই সময় থেকেই সাগরে মাছ ধরা বন্ধ করে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। এখন স্বপ্ন একটাই সিডরে বেঁচে যাওয়া ডলিকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করা। ডলি এ বছর কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা