kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সিডরের এক যুগ

স্বজন হারাদের কান্না আজও থামেনি

বাঁধ সংস্কার ও আশ্রয়কেন্দ্র হলেও বিকল্প কর্মসংস্থান হয়নি

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বজন হারাদের কান্না আজও থামেনি

আজ সিডর দিবস। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটারগতির প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দক্ষিণের জনপদ। মারা যায় ৪ হাজারের বেশী মানুষ। অগণিত গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। বাড়িঘর, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুন্দরবনের গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

সুপার সাইক্লোন সিডরের আজ এক যুগ পূর্ণ হয়েছে। আজও স্বজন হারানোদের কান্না থামেনি। গত ১১ বছরে আমতলী-তালতলীতে বেশ কয়েকটি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বেশ কিছু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার করা হলেও এখনো অনেক বাঁধ সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে অনেক বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। প্রকৃতির সাথে প্রতিদিন যাদের যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাদের জন্য বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখনো করা হয়নি।

সুপার সাইক্লোন সিডরের ক্ষত চিহ্ন আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা। সিডরের ২ দিন পূর্বে উপজেলা ঘটখালী ও বৈঠাকাটা গ্রামে থেকে ১৪ জন দিন মজুর পানের বরজের জন্য ধানশিলতা সংগ্রহে ট্রলার নিয়ে সাগরের সুন্দরবন এলাকার দুবলারচরে যায়। সিডরের ভয়াল রাতে তাদেরকে ট্রলারসহ ভাসিয়ে নিয়ে যায় পায়রা নদীর মোহনা সংলগ্ন টেংরাগিরি বনের কাছে। এদের মধ্যে ৪ জন জীবিত ফিরে আসলেও ১০ জন আজো ফিরে আসেনি। এরা হলো ইউসুফ (৪০), জব্বার (৫৫), সোবাহান (৪২), হোসেন (৫০), খলিল (৩৫), রতন (৪০), সোহেল (১৮), মনিরুল (২৫), দেলোয়ার (২৫), আলতাফ (২০)। স্বজনদের হারিয়ে অসহায় সে পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় সিডরে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ২৯৭ জন মানুষের প্রাণহানী হয়। সিডরের পরে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকার সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১২২টি সাইক্লোন সেল্টার আছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এতে বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিলে মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। 

এদিকে সিডরে দু’উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৩/১ পোল্ডারে ২৫ কিলোমিটার, ৪৪/বি পোল্ডারে ২০ কিলোমিটার ও ৪৫ পোল্ডারে ১৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনও অনেকটা হুমকির মধ্যে রয়েছে বেড়িবাঁধ ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ জন।

আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা থেকে কলাগাছিয়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বেড়িবাঁধের বাইরে কোনো সাইক্লোন সেল্টার না থাকায় বন্যা বা সাইক্লোন এলে ঐ এলাকার জনসাধারণ চরম ঝুঁকিতে থাকে।

তালতলী উপজেলার সোবহানপাড়া গ্রামের সমাজসেবক ও সাবেক ইউপি সদস্য আ. আজিজ বলেন, এ এলাকার জেলেরা সাগরে যুদ্ধ, সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। সিডরের এতবড় আঘাত হানার পরেও তাদের মাঝে এতটুকু সচেতন ফিরে আসেনি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান মৌসুমে যে পরিমাণ জেলে শুটকিপল্লী আশারচর এলাকায় অবস্থান করছে হঠাৎ কোনো সাইক্লোন বা ঝড় এলে তখন তাদের আশ্রয় নেওয়ার জন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্র এখানে নেই। তাই জেলেদের নিরাপত্তার জন্য এখানে একটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুপার সাইক্লোন সিডরের পর যতটি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, তা অত্র এলাকার জন্য পর্যাপ্ত না। উপকূলে পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা খুবই জরুরি।

সদ্য যোগ দেওয়া বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম মুঠোফোনে জানান, বরগুনা জেলার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো দ্রুত সংস্কার, নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও অসমাপ্ত কাজগুলো চলতি অর্থবছরে সমাপ্ত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা