kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচার

মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফিরল ১২২ রোহিঙ্গা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফিরল ১২২ রোহিঙ্গা

সাগরপথে ট্রলারে চেপে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভাসমান ১২২ রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এদের মধ্যে দালাল চক্রের চারজন সদস্য রয়েছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সেন্ট মার্টিনসের অদূরে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ৫৯ জন নারী এবং ৪৮ জন পুরুষ রয়েছে বলে জানান কোস্টগার্ড।

সেন্ট মার্টিনস কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জোসেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সেন্ট মার্টিনসের অদূরে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসছিল। এ সময় সাগরে কোস্টগার্ড টহল দল বিষয়টি দেখে আমাকে অবগত করেন। আমি আরো কয়েকটি ট্রলার যোগে দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হই। ট্রলারটিতে চারজন পাচারকারী দালালসহ ১২২ জন রোহিঙ্গা নাগরিক ছিল।

লেফটেন্যান্ট জোসেল রানা আরো জানান, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা দালালদের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় স্বীকার করেছে। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা নাগরিকদের থানায় হস্তান্তর করেছে কোস্টগার্ড। তাদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্ব-স্ব ক্যাম্পে প্রেরণ করা হবে।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা নারী উখিয়া বালুখালী ক্যাম্পের কুলসুমা আক্তার বলেন, স্বামী আগে থেকে মালয়েশিয়া থাকেন। তার কথায় আমি দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারে উঠেছি। এ ব্যাপারে দালালদের সঙ্গে আমার স্বামী কথা বলেছিল, আমাকে শুধু ট্রলারে উঠতে বলেছে।

একই ক্যাম্পের আজিজা আক্তার নামে আরেক নারী বলেন, মালয়েশিয়াতে এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমাদের উভয় পরিবার আমাকে স্বামীর কাছে পাঠাচ্ছে। তবে আমাদের আগে বলা হয়েছিল, বড় জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এসে দেখি একটি ট্রলারে গাদাগাদি করে সবাইকে উঠানো হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা (কোস্টগার্ড) সময়মত না পৌঁছলে ট্রলারটি ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে যাচ্ছিলাম আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা