kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা জিহাদের পরিবার

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি    

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:১৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা জিহাদের পরিবার

সংসারের আয়-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বগুড়ার শাজাহানপুরের একটি দরিদ্র পরিবার। কিস্তির টাকা আর চার সদস্যের দরিদ্র পরিবারটির পেটের ভাত জোগাতে না পারার আশংকায় ভেঙে পড়েছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তেরো বছরের জিহাদ।

কিশোর জিহাদ উপজেলার চোপীনগর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র-কুষ্টিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র।

জিহাদ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্টের সেনাস্বরণী থেকে একজন বৃদ্ধ লোককে নিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নামিয়ে দেয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথে জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকায় রাস্তায় হাইওয়ে পুলিশকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ফেরার সময় বগুড়া-নাটোর সড়কের শাকপালা, রানীরহাট দিয়ে খালি ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। শাকপালা পৌঁছার একটু আগে রাস্তার ওপর পাঁচজন লোক তার পথরোধ করে। এদের মধ্যে দুজন ভ্যানে উঠে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। অন্যরা জিহাদকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তার পশ্চিম পাশে নিয়ে গিয়ে মারপিট করতে থাকে। এ সময় চিৎকার করলে তারা দৌড়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ালে একটি মোটরসাইকেল এসে তাদেরকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

জিহাদ আরো জানায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সব ছোট। বড়ভাই বিয়ে করে আলাদা থাকে। মেঝো ভাই বেকার। বাবা এক সময় অটোটেম্পু চালাতেন। হাইওয়ে পুলিশের ভয়ে এখন আর টেম্পু চালান না। গত কয়েক মাস ধরে বাবা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে বিছানায় শুয়ে রয়েছে। মাও অসুস্থ। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান কিনে সংসারের হাল ধরেছে সে। সে এখন এই দরিদ্র সংসারের একমাত্র উপার্যক্ষম ব্যক্তি। ভ্যান চালিয়ে যা পায় তাই দিয়ে চার সদস্যের এই দরিদ্র পরিবারের সদস্যের পেটের ভাত জোগতো। এমতাবস্থায় এই ভ্যানটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই দরিদ্র পরিবারটি।

কৈগাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হরিদাস মণ্ডল জানান, মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা