kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

টিলা কেটে ঘর নির্মাণ, মাটি ধসে এক নারীর মৃত্যু

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিলা কেটে ঘর নির্মাণ, মাটি ধসে এক নারীর মৃত্যু

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পাহাড়ি উঁচু টিলা কেটে অবৈধভাবে নিমার্ণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। আর সেই ঘর নির্মাণে জন্য কেটে ফেলা একটি টিলার মাটি ধ্বসে আমেন বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে গুরুতর আহত হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত আমেনা বেগম গ্রামের কৃষক মাসুক মিয়ার স্ত্রী। তাদের ছয় সন্তান রয়েছে। 

জানা যায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাদে উবাহাটা গ্রামের মাসুক মিয়ার মালিকানাধীন জায়গার একটি উঁচু টিলা কেটে নিজের বাড়ির উঠান ভরাট করছিলেন। অবশিষ্ট অংশে ঘেঁষে তুলা হয় ঘর। ওই কেটে ফেলা টিলার পাশে শিশুরা খেলাধুলা করছিল। পরে শিশুদের সরিয়ে আনার সময় টিলার কাটা অংশের মাটি ধ্বসে পড়ে যায়। এমন সময় আমেনা বেগম (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। চিকিৎসকেরা বাঁচাতে পারেননি তাকে। রাত ৮টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাদে উবাহাটা গ্রামের একটি উঁচু টিলা কেটে একটি বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। কেটে ফেলা টিলার উপরে পাকা দেয়ালের ঘরের কাজ চলছে। ঘরের আশপাশ এলাকায় টিলা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। মোহাম্মদ আলী ও শাহিন মিয়া নামে দুই ব্যক্তি ঘর তৈরি করছেন। তবে ব্যক্তিগত টিলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে টিলা কাটা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। 

এদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি টিলা অধ্যুষিত দুর্গম এলাকায় অসংখ্য স্থানে অবৈধভাবে টিলা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। 

নিহতের স্বামী মাসুক মিয়া জানান, ‘টিলার কাটা অংশের মাটি ধ্বসে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখানে কারো কোনো দোষ নেই।’ কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, তাদের ব্যক্তিগত টিলার কাটা অংশের মাটি ধ্বসে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ব্যাপারে কারো কোনো অভিযোগ নেই।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর শুনে একজন এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে টিলা আগেই কাটা ছিল। কিছু মাটি ধ্বসে ওই নারী আহত হন ও পরে মারা যান। এ ব্যাপারে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা