kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

পাচারের অভিযোগে দম্পতি আটক

পাচারের পর সৌন্দর্য বাড়াতে করা হয় কসমেটিক্স সার্জারি

যশোর অফিস   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাচারের পর সৌন্দর্য বাড়াতে করা হয় কসমেটিক্স সার্জারি

চাকরির প্রলোভনে দুই নারীকে ভারতে পাচার ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি পুলিশ এক দম্পতিকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো আরিফা আক্তার পপি (২৮) ও তার স্বামী হালিম মোল্লা (৫৮)। হালিম মোল্লা যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের মৃত মেছের আলীর ছেলে। গতকাল বুধবার তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এক প্রেসব্রিফিং এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও পরিদর্শক (অপারেশনস) শেখ তাসমীম আলম।

ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত বুধবার মামলার বাদী 'ক' সার্কেল অফিসে হাজির হয়ে জানান, ভারতে চাকরির কথা বলে গত ৮ মার্চ সকালে আসামি আরিফা আক্তার পপি বাদী ও তার আরেক প্রতিবেশী নারীকে তার বাসায় নিয়ে আসে। এরপর তাদের দুজনকে বাসে করে বেনাপোল পুটখালি সীমান্তে নিয়ে যায়। সেখানে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাতে তাদের দুজনকে তুলে দেয়। এরপর আরিফা সেখান থেকে কৌশলে চলে আসে। অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদেরকে ভারতের পাল্লা নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে একদিন রাখার পর ট্রেনে আরেক আসামি বেঙ্গালুরুর সীমার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর ফেসিয়াল করার কথা বলে সীমা সাহা তাকে ভারতে জেপি নগর এলাকার এক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তারবেশে কয়েকজন তাকে এক রুমের মধ্যে অজ্ঞান করে ডান হাত থেকে মাংস কেটে মুখে কসমেটিক্স সার্জারিসহ পেটের অপারেশন করে। হাসপাতালে একদিন রাখার পর বাদীকে আসামি সীমার বাড়িতে নিয়ে আসে। কিছুদিন পর তার সাথে পাচার হওয়া তার প্রতিবেশী নারি বাদীর রুমে আসলে জানতে পারে তাকে দিয়ে জোর করে পতিতাবৃত্তি করানো হচ্ছে। এরপর সীমা সাহা বাদীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। এতে রাজী না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে সীমা সাহা তাকে মারপিট করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের দুজনকে আরিফা আক্তার পপির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে বলে জানায়। এ ঘটনার দেড় মাস পর  কসাথে পাচার হওয়া বাদী ও তার প্রতিবেশী রাজু নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। 

এরপর তারা গত বুধবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার 'ক' সার্কেল গোলাম রব্বানি শেখ এর কাছে ঘটনা জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর আসামি আরিফা আক্তার ও তার স্বামী হালিম মোল্লাকে আটক করা হয়। অপর আসামি সীমা সাহা ভারতে থাকায় আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘট্নায় বুধবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা