kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়

মো. আলমগীর মিয়া, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)    

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনে চলছে অতিরিক্ত ফি আদায়। সংশ্লিষ্ট স্কুলের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ফি আদায়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানায়, কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড ফি ১৫০৫ টাকা ও কেন্দ্র ফি ৪৬৫ টাকা মোট ১৯৭০ টাকা, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বোর্ড ফি ১৪১৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ৪৩৫ টাকা মোট ১৮৫০ টাকা এবং মানবিক বিভাগে বোর্ড ফি ১৪১৫ টাকা ও কেন্দ্র ফি ৪৩৫ টাকা মোট ১৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্রে জানায়, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২০ সালে নবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩৩টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ১৮টি স্কুল ও ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এ সব প্রায় প্রতিষ্ঠানে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণে কোচিংসহ নানা খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ আজিজ হাবীব উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে চার হাজার ১০০ টাকা, পানিউমদার রাগিব রাবেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে চার  হাজার টাকা, ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় তিন হাজার ৬০০ টাকা, আউশকান্দি র.প স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিন হাজার ৫০০ টাকা, হাজী আঞ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে চার হাজার, বাগাউরা উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন হাজার ৬০০ টাকা, নহরপুর শাহজালাল (রা.) দাখিল মাদ্রাসায় তিন হাজার ৫০০ টাকা ফি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, নবীগঞ্জ শহরতলীর জে কে মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও হীরা মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণে দুই হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং কোচিং এর জন্য পরবর্তীতে এক হাজার ৫০০  টাকা করে দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অতিরিক্ত ফি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক অভিভাবক। আবার অনেকেই তাদের ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে দার-দেনা করে টাকা করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষকরা টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। অভিভাবক সেজে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা উল্লেখিত টাকা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।

পানিউমদার রাগিব রাবেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফি কত টাকা তিনি জানেন না বলে ফোন কেটে দেন। সাংবাদিক পরিচয়ে সরেজমিনে গেলে ফি আদায়কারী শিক্ষকরা জানান, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে তাঁরা পরীক্ষার ফি বাবদ দুই হাজার ১০০ টাকা ও কোচিং ফি বাবদ দুই হাজার টাকা করে নিচ্ছেন।

অভিভাবক সেজে সৈয়দ আজিজ হাবীব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সূকা বৈদ্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফরম পূরণে ফি বাবদ দুই হাজার ৩০ টাকা ও কোচিং বাবত দুই হাজার টাকা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।

নহরপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সালাম বলেন, ফরম পূরণের ফি দুই হাজার ৫০০ টাকা। কোচিং এর টাকা আলাদা তা সরাসরি গিয়ে জানার জন্য বলেন।

ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুল আলমের সঙ্গে  যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন তিন হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে আসেন। আউশকান্দি র.প স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফি কত জানেন না বলে ফোন রেখে দেন।

হাজী আঞ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানু মিয়ার সঙ্গে অভিভাবক সেজে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফি-এর কথা জানতে চাইলে রেগে উঠে বলেন, এ সব তথ্য মোবাইলে বলা যাবে না, সরাসরি স্কুলে গিয়ে জানার জন্য বলেন তিনি। এরপর পাশে থাকা বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির এক সদস্যের কাছে ফোন ধরিয়ে দেন।

নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন বলেন,  কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে দুই হাজার টাকা, মানবিক ও অন্যান্য বিভাগে ১৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এ ধরনের কোনও অভিযোগ তাদের কাছে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।    

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা