kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত শরীয়তপুরের তিনজনের দাফন সম্পন্ন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত শরীয়তপুরের তিনজনের দাফন সম্পন্ন

ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় রেল দুর্ঘটনায় নিহত শরীয়তপুরের তিনজনের গ্রামের বাড়িতে তাদের মরদেহ দাফন করা  হয়েছে। নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

নিহতরা হলেন- ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশিনগর ইউনিয়নের মাদবর কান্দির বাসিন্দা অলু হাওলাদারের মেয়ে কাকলী বেগম (২২), পার্শ্ববর্তী গোসাইরহাট উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর টেকপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও কাকলী বেগমের মামি শাশুড়ি আমাতন বেগম (৪৫), আমাতন বেগমের মেয়ে মরিয়ম (৪)। আজ বুধবার নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

কাকলীর পরিবারের সদস্য ও সখিপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সিলেটের হযরত শাহাজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারতের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল কাকলী, তার মেয়ে, শাশুড়ি, মামা শ্বশুর, মামি শাশুড়ি ও মামা শ্বশুরের মেয়ে মরিয়ম। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে তারা বাড়ি ফিরতে না পারায় সিলেটে তাদের এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে চারদিন থাকার পর সোমবার রাতে ট্রেনে উঠে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা করে তারা। তাদের বহনকারী ট্রেনটি ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যায় কাকলী বেগম, তার মামি শাশুড়ি আমাতন বেগম ও আমাতন বেগমের মেয়ে মরিয়ম। দুর্ঘটনার পর কাকলীর শ্বশুর ও তার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাকলী ও অন্যান্যদের লাশ শনাক্ত করে। পরে বুধবার সকালে কাকলী ও দুপুরে অন্যান্যদের লাশ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় কাকলী বেগমের মেয়ে শিশু মাহিমা (৩), শাশুড়ি রাহিমা বেগম (৪৫), মামা শ্বশুর জাহাঙ্গীর মিয়া (৫০)। তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে কাকলী বেগমের মেয়ে মাহিমা রাজধানীর সিএমএইচে ভর্তি রয়েছে। মাহিমার যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. এনামুল হক।
 
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। তাদের এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কাকলী বেগমের মেয়ে মাহিমার যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম নিয়েছেন।

ভেগদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাফিস বলেন, ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। কাকলীর পরিবার যদি হতদরিদ্র হয় তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগীতা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা