kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

মুণ্ডুমালা ইউনিয়ন ভূমি অফিস

ডিসির নির্দেশ অমান্য করে খাজনা পরিশোধের চেক প্রদান

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিসির নির্দেশ অমান্য করে খাজনা পরিশোধের চেক প্রদান

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক প্রজার সম্পত্তির খাজনা আদায় স্থগিত রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) গত বছরের ২০ নভেম্বর ১৮-৬৮০ নম্বর স্মারকে ওই সম্পত্তি খাজনা আদায়ে স্থগিত আদেশ দেন। এ ছাড়াও তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই একই বছরের ২২ নভেম্বর ১৬০৮ নম্বর স্মারকাদেশ বলে অত্র ১৭৬৩ হোল্ডিংয়ে খাজনা ও খারিজসহ সকল প্রকার কার্যক্রম পর্রবতী নিদের্শ না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত আদেশ দেন।

কিন্তু ওই আদেশ অমান্য করে বর্তমান ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) রবিউল ইসলাম চলতি মাসের গত ৫ নভেম্বর ১৭৬৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে মুণ্ডুমালা এলাকার জাহেদুর রহমান নামের ব্যক্তিকে গোপনে চলতি অর্থ বছরের খাজনা পরিশোধের চেক প্রদান করেন।

এ নিয়ে মুণ্ডুমালা বাজারের স্থায়ী বাসিন্দা ডাক্তার জালাল উদ্দিনের পুত্র সিজার আহম্মেদ আজ বুধবার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌর বাজারের সাদিপুর মৌজার ১৬২/২ নম্বর খতিয়ানের ১৩৩/১২৯ নম্বর দাগে ২৬ শতাংশের কাত ১৩ শতক জমির বর্তমান মালিক ও দখলদার ডাক্তার জালাল উদ্দিন। হাইকোর্ট সিভিল রিভিশন আদেশ বলে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের ২৩ তারিখে ডিসিআর প্রদান করে ভূমি অফিস। এ অবস্থায় সম্পত্তি নিয়ে নারাজি পিটিশন দিয়ে আপিল করেছিলেন বর্তমান দখলদার ডাক্তার জালাল উদ্দিন। আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত আদেশ দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানোর। লিখিত আদেশপত্র পেয়ে হোল্ডিং বইয়ে এসব নির্দেশ লিখে নিচে স্বাক্ষর করে তৎকালীন সময়ের অফিসের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর সাত্তার।

স্থগিত সম্পতির খাজনা পরিশোধের বিষয়টি জানতে পেরে আপিলকৃত জালাল উদ্দিন হোল্ডিং বহির খাজনা পরিশোধের কপি ডকুমেন্ট আকারে উদ্ধার করেন।

সিজার আহম্মেদ বলেন, এই সম্পত্তির খাজনা আদায় স্থগিত রাখার পরেও গোপনে উৎকোচের বিনিময়ে ভূমি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জাইদুর রহমানকে খাজনা পরিশোধের চেক প্রদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ডাক্তার জালাল উদ্দিন জানান, তার সাদিপুর মৌজার ১৬২/২ খতিয়ানে ১৩৩/১২৯ দাগে ২৬ শতক সম্পত্তি আদালত ডিগ্রি দেন, এবং পুরো সম্পত্তি আমার বড় ছেলে আহম্মদ হোসেন সিজারকে সরেজমিন এসে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু হঠাৎ করে জাহেদুর রহমান ২৬ শতকের কাত ১৩ শতক জমির খাজনা-খারিজ করে হোল্ডিং খোলার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি গত বছর তার হোল্ডিং বন্ধ করার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) বরাবর নারাজি পিটিশন জমা দেয়। ফলে তার হোল্ডিং এর সকল কার্যকম বন্ধ করা হয়। বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী ৩ ডিসেম্বর আপিল শোনানীর দিন ধার্য্য রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মুন্ডুমালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) রবিউল ইসলাম বলেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নয়, ভুলবশত খাজনাটি নেওয়া হয়েছে। আমরা জাহেদুর রহমানের কাছে খাজনার চেকটি ফেরৎ নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে সংবাদটি পত্রিকায় প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

এসব বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু বলেন, ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা