kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

শরণখোলায় সরকারি হিসেবে বুলবুলে ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:০১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শরণখোলায় সরকারি হিসেবে বুলবুলে ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা

বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে চারটি ইউনিয়নে কাঁচা ঘরবাড়ি, কৃষি, মৎস্য, গাছপালা, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুত লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫কোটি টাকা।

এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় একাধি সূত্র জানায়, সরকারি হিসেবের চেয়ে বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রনজিৎ সরকার জানান, ঝড়ে সম্পূর্ণ ও আংশিক মিলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯৭৬টি ঘরবাড়ি। আর্থিক হিসাবে যার পরিমাণ এক কোটি ৯৬ লাখ টাকা। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, আমন দুই শ ২০ হেক্টর, খেসাড়ি ৫০ হেক্টর, রবিশস্য ও শীতকালীন শাক-সবজির ১২ হেক্টরসহ কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকার। 

উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় জানান, ১২২টি পুকুর ও ঘেরের ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ছয় মেট্রিক টন সাদা মাছ ও চিংড়ি ভেসে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাকা সড়ক সম্পূর্ণ ও আংশিক মিলে ১৪ কিলোমিটার এবং কাচা সড়ক ২৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আট কোটি টাকা।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোরেলগঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আহমেদ জানান, সিডরের চেয়েও বিদ্যুতের বেশি ক্ষতি করেছে বুলবুল। শরণখোলায় ৪০০ কিলোমিটার লাইনের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪২টি খুঁটি, ২৪টি ট্রান্সফরমান ভেঙে গেছে। সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

ডিজিএম আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ দ্রুত চলছে। শরণখোলার সবখানে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল হতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।

উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে মো. মোজাম্মেল হোসেন, আসাদুজ্জামান মিলন, মইনুল ইসলাম টিপু ও জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন জানান, সরকারি হিসাবের চেয়ে বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে। সঠিক হিসাব নিরুপনে কাজ চলছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ক্ষয়ক্ষতি প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জরিপের কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষতির হিসাব শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা