kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

স্বামী-ভাসুরের নির্যাতনে হাসপাতালে গৃহবধূ

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বামী-ভাসুরের নির্যাতনে হাসপাতালে গৃহবধূ

লাইলি খাতুন। বয়স ষোল। এক বছর আগেও সে স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করছিল। তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ভালোবাসার টানে পরিবারের অমতে সে বিয়ে করে একই এলাকার শাকিল হোসেন নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে। তাদের বিয়ের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছিল আব্দুল হামিদ নামে এক কাজী।

অল্প বয়সে বিয়ে করে এখন বিপাকে ওই গৃহবধূ। শুরু হয়েছে তার উপর অমানবিক নির্যাতন। বিয়ের পরে উভয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। একদিকে স্বামীর নির্যাতন অন্যদিকে স্বামীর বড়ভাইয়ের (চাচাতো) নির্যাতন। উপলক্ষ্য তাদের যৌতুকের টাকা আদায় করা।

এই ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকেলে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আবাদপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে। নির্যাতীতা লাইলি খাতুন এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

জানা গেছে, এক বছর পূর্বে আবাদপুর গ্রামের বিনছের আলী মণ্ডলের ছেলে শাকিল হোসেন (১৭) এর সাথে একই গ্রামের লবির উদ্দিনের মেয়ে লাইলি খাতুন (১৬) সাথে স্কুলে পড়াশোনা করার সময় প্রেমের সর্ম্পক গড়ের ওঠে। এক পর্যায়ে তারা পরিবারের অমতে হাজেরা পাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ নামে এক কাজীর কাছে বিয়ে করে। বিয়ের পরে উভয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। বিয়ের সময় লাইলি খাতুন তার বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে এসে শাকিলকে দেয়। এরপর আরো টাকার জন্য চাপ দেয় স্বামী। লাইলি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিদিনই স্বামী মারধর করতো। এর এক পর্যায়ে গত রবিবার যৌতুকের টাকা নিয়ে লাইলি আর শাকিলের মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে শাকিল তার স্ত্রীকে বেধরক পেটায়। এর পরেও সে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর বাড়িতে থাকে। পরদিন সোমবার বিকেলে শাকিলের চাচাতো ভাই বেলাল হোসেন আবারও লাইলিকে লাঠি দিয়ে বেধরক পেটায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতাই ওই দিন রাতেই লাইলি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।

সরেজমিনে আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর ব্রেডে চিকিৎসা নিচ্ছে লাইলি বেগম। পাশে তার মা হাজেরা বেগম বসে আছেন। এ সময় লাইলি তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেয় সাংবাদিকদের কাছে। তখন লাইলি তার শরীরের কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখায়।

লাইলি বলে, আমি বিয়ে করার সময় আমার বাবার বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে আমার স্বামীকে দিয়েছিলাম। এর পর সে আরো টাকার জন্য আমাকে চাপ দেয় আর মারপিট করে। গত রবিবার আমার স্বামী আমাকে মেরেছে আর সোমবার আমার স্বামীর চাচাতো বড়ভাই (ভাসুর) বেলাল হোসেনও আমাকে লাঠি দিয়ে খুব মেয়েছে। তারা শুধু টাকা চায়। আমি এই নির্যাতনের বিচার চাই।

লাইলির মা হাজেরা বেগম বলেন, মেয়ে আমাদের অমতে বিয়ে করে। সেই সময় আমার জামাইকে ৬০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছিল। এখন সে আরো টাকা চায়। না দিতে চাইলেই মেয়েকে নির্যাতন করে। মেয়ের সারা শরীর লাঠি দিয়ে পেটানোর অনেক দাগ।

এ ব্যাপারে শাকিলের চাচাতো বড় ভাই বেলাল হোসেন পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা পারিবারিক বিষয়ে প্রায় দিনই ঝগড়া করে। সেই দিন আমার ভাই শাকিল তার বউকে মেরেছিল আমি মারিনি।

তবে শাকিল ও তার পরিবারের কেউ কালের কণ্ঠের কাছে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, আমার বিষয়টি জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা