kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইউএনও’র কাছে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ

দুস্থদের চাল ইউপি চেয়ারম্যানের পেটে

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুস্থদের চাল ইউপি চেয়ারম্যানের পেটে

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্ধকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭নং দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হেল আজিম বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পরিবার মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৪৩৪ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। এদের মধ্যে প্রথম দফায় ১৩৬৫ জন এবং পরে বৃদ্ধিকৃত তালিকার আরো ৬৯ জন যুক্ত হয়। এসব সুবিধাভোগীগণ বছরে দুই বার ১০ টাকা কেজি দরে ৬০ কেজি চাল পায়।

লিখিত অভিযোগে সুবিধাভোগীদের দাবি, তাদের নামে দশ টাকা কেজি চালের কার্ড ইস্যু করা হলেও তারা সেই চাল ডিলারের কাছ থেকে উত্তোলন করতে পারছেন না। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গত ২০১৭ সালে থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ বার চাল উত্তোলন করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার চাল আত্মসাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে বুধবাব দুপুরে মুঠোফোনে কথা হয় দাউদপুর ইউনিয়নের রঘুনন্দপুর গ্রামের মোছা. সানোয়ারা বেগম (৫৮) সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, তার কোনো জমি নেই। অসহায় অবস্থায় তিনি নিদারুণ কষ্টে দিনানিপাত করছেন। তার নামে ১০ টাকা কেজি দরে যে চালের কার্ড হয়েছে এটা তিনি জানেন না এবং তিনি কোনোদিন কার্ডের মাধ্যমে ডিলারের কাছ থেকে চাল উত্তোলন করেনি।

একই অভিযোগ করেন, ওই গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী আনোরা বেগম, আজাহার আলী, মজিদা বিবি, বাদশা মিয়া, মো. আসাদুজ্জামানসহ আনেকেই।

ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম জানান, প্রথম তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে বৃদ্ধিকৃত তালিকায় ৬৯ জন সুবিধাভোগীর নাম সংযুক্ত করা হয়। ওই কার্ডগুলো কোনো সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছায়নি।

ওই ইউনিয়নের চালের ডিলার আব্দুল মতিন কালের কণ্ঠকে জানান, আমি নিদিষ্ট ব্যক্তিকেই কার্ডের মাধ্যমে চাল প্রদান করেছি। কার্ড ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে চাল দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৭নং দাউদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হেল আজিম কালের কণ্ঠকে জানান, আমি ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করেছি এবং তাদের মাধ্যমেই কার্ডগুলো বিতরণ করেছি। অভিযোগের বিষয়ে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা