kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

বামনায় আমন চাষিদের মাথায় হাত

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বামনায় আমন চাষিদের মাথায় হাত

গত ১০ নভেম্বর উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বরগুনার সমগ্র বামনা উপকূল। তিনশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, দুই হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। বুলবুলে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে এ অঞ্চলে চলতি মৌসুমের আমন চাষিদের। 

উপজেলার প্রায় ত্রিশ শতাংশ আমন ক্ষেতে ধানসহ গাছ মাটিতে মিশে গেছে। চলতি মৌসুমে আমন চাষিরা ফলন পাওয়া তো দূরের কথা ক্ষেত থেকে চিটাও সংগ্রহ করতে পারবে না। 

বামনা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় ৬ হাজার ২শত ৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। বুলবুলের আঘাতে ত্রিশ শতাংশ (১ হাজার ৮শত ৮৪ হেক্টর) জমির আমন ক্ষেত মাটির সাথে মিশে যায়। এ ছাড়া ১৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করা হয়। এই সবজি ক্ষেতের প্রায় ৮০ হেক্টর নষ্ট হয়েছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়ে মোট ৪০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয় এর প্রায় ১৬ হেক্টর জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ চালিতাবুনিয়া গ্রামের আমন চাষি মো. আবু মল্লিক জানায়, তিনি এ বছর মৌসুমের শুরুতে দেড় হেক্টর জমিতে উপশী আমন চাষ করেন। এতে এখন পর্যন্ত তার প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়। বুলবুলে তার আমন ক্ষেতের প্রায় এক হেক্টর জমির ধানের নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমন চাষ করে তিনি এখন দিশেহারা। সর্বনাশা ঝড় তার বসতঘরসহ ক্ষেতের ধানও কেড়ে নিয়েছে। 

চালিতাবুনিয়া গ্রামের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, বুলবুলের আঘাতে এ উপজেলায় উপশী আমনসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। আমন ক্ষেতে সবে মাত্র ধান বেড় হতে শুরু করেছে। এমন সময় এই ঝড় কৃষকদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে।

বামনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দ্বয়িত্ব) সিএম রেজাউল করীম বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত কৃষকদের পুনর্বাসন বা সহায়তা প্রদানের কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে নির্দেশনা আর বরাদ্দ পেলে অগ্রাধীকারের ভিত্তিতে তাদেরকে সহায়তা দেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা