kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

জাবি উপাচার্য অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাবি উপাচার্য অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বন্ধের মধ্যেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছেন তারা। 

বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় কলা ও মানবিকী অনুষদসংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি পুরাতন প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন এলাকা ত্যাগ করেন। মিছিলে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও  উপাচার্যবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে হল বন্ধ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ দ্বারা হামলা চালিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।

সমাবেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, সমাধানের উপায় ভুল পথে হাঁটা নয়, সবাইকে একত্রে বসে এই সংকট সমাধান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যত বিলম্বেই খুলুক না কেন সদিচ্ছা না থাকলে এই সংকট সমাধান সম্ভব না। উপাচার্য যখন ছাত্রলীগের হামলাকে গণ-অভ্যুত্থান বলেন সেটার কারণে তিনি একসময় লজ্জিত হবেন। ছাত্ররা জাহাঙ্গীরনগর এর পক্ষে আন্দোলন করছে। তাই তাদেরকে কোনোভাবেই থামানো সম্ভব নয়। তাই সংকট দূরীকরণের জন্য হল খুলে দেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে নতুন কলা ভবনে বিকাল ৪টায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেছে।

এদিকে সমাবেশের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যকে অফিস না করার জন্য অনুরোধ করেন। তারা বলেন, ম্যাডাম আপনি দয়া করে অফিস করবেন না। আপনাকে আমরা মানতে পারছি না। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম আন্দোলনকারীদের বলেন, আজকে তো তোমাদের কোনো কর্মসূচি নেই তাই আমি অফিস করছি।  

উপাচার্যকে অনুরোধের বিষয়ে প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ তবে প্রশাসনিক কাজ চলছে। সমাধান করার জন্য রাষ্ট্র বিষয়টি দেখছে। ওঁরা তো রাষ্ট্র বরাবর আবেদন করেছেন। উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছে এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। ওঁরা এখন যেটা করছে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে করছে। তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো খুলে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রায় দুই মাস যাবৎ আন্দোলন করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। গত ৫ নভেম্বর উপাচার্যের বাসভবন অবরুদ্ধ করায় জাবি শাখা ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। এ হামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ ৩৫ জন আহত হয়েছিল যার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা